শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

এলডিসি থেকে উত্তরণ তিন বছর স্থগিত চেয়ে জাতিসংঘকে চিঠি

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

এলডিসি থেকে উত্তরণ তিন বছর স্থগিত চেয়ে জাতিসংঘকে চিঠি
এলডিসি থেকে উত্তরণ তিন বছর স্থগিত চেয়ে জাতিসংঘকে চিঠি। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ তিন বছরের জন্য স্থগিত করতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকীর সই করা চিঠি সিডিপির কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি সিডিপির বৈঠকে বাংলাদেশের অনুরোধসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।


বিজ্ঞাপন


চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকার যে প্রস্তুতিমূলক সময় (প্রিপারেটরি পিরিয়ড) পেয়েছিল, তা মূলত করোনাভাইরাসপরবর্তী পাঁচ বছরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু সময়ে একাধিক বৈশ্বিক ধাক্কায় অর্থনীতি চাপে পড়ে। রাশিয়াইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে, বিশ্বজুড়ে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি শিপিং খাতে সরবরাহব্যাহত হওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

ছাড়া অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ হ্রাস, রাজস্ব প্রবৃদ্ধির নিম্নগতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় কাঠামোগত সংস্কারের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এলডিসিউত্তর বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত নীতিগত সমন্বয় পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে উচ্চমাত্রার অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের নীতিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ তিন বছরের জন্য একটি ক্রাইসিস অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনা এবং সম্ভাব্য সময় বৃদ্ধি চেয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির বৈঠকের পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত হতে পারে। এরপর সিডিপি তাদের পর্যবেক্ষণ সুপারিশ দেবে। বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে আগামী সেপ্টেম্বরে।

বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এলডিসি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। এলডিসিভুক্ত থাকার সুবাদে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ নানা সুযোগসুবিধা পেয়ে এসেছে দেশটি। ২০১৮ ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিন সূচকেই উত্তীর্ণ হয় বাংলাদেশ। ২০২১ সালেই সুপারিশ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তীর্ণ হবে। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় বাড়ানো হয়।

এআর

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর