রাজধানীর মিরপুর এলাকায় রমজানকে ঘিরে জমে উঠেছে ইফতারি বাজার। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর থেকে মিরপুর-১০ নম্বর, মিরপুর-৬ নম্বর, মিরপুর-২ নম্বর, মিরপুর-১ নম্বর, পল্লবী, কাজীপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
জুমার নামাজের পরপরই বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতার সরব উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে সড়কপথ ও অলিগলি। বিশেষ করে ইফতারি দোকানগুলোতে ভিড় বাড়তে থাকে। দোকানিরা সারি সারি টেবিল ও স্টলে নানা পদের ইফতার সামগ্রী সাজিয়ে বসেন, আর ক্রেতারা পছন্দের খাবার কিনতে ভিড় করেন।
বিজ্ঞাপন
দেখা যায়, দোকানগুলোর সামনে রঙিন ও আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে বেগুনি, পিঁয়াজু, আলুর চপ, ডিম চপ, ছোলা, বুট, বুন্দিয়া, হালিমসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ইফতার সামগ্রী। পাশাপাশি ফাস্টফুড ও গ্রিল আইটেমও রয়েছে সমানতালে। অনেক ক্রেতাকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইফতারি কিনতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার মোবাইল ফোনে ছবি তুলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। বিক্রেতাদের ধারণা, রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন বিকেলের দিকে এ ভিড় আরও বাড়বে।
মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরের পাশের সড়কে প্রতিবছরের মতো এবারও ইফতার সামগ্রী বিক্রি করছেন মো. জাকারিয়া। তিনি জানান, তার দোকানে বেগুনি, আলুর চপ ও পিঁয়াজু প্রতিটি পাঁচ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। বুট ও বুন্দিয়া প্রতি ১০০ গ্রাম ২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। ডিমের চপ প্রতিটি ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, গত বছর যে দামে বিক্রি করেছি, এবারও সেই দাম রাখছি। কাঁচামালের দাম তেমন একটা বাড়েনি, তাই বাড়তি দাম নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

মিরপুরের বিভিন্ন অলিগলি ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় অসংখ্য দোকানে সাজানো রয়েছে বাহারি ইফতার সামগ্রী। মিরপুর-২ নম্বর সংলগ্ন কয়েকটি দোকানে ছোলা ও বুটের পাশাপাশি ফাস্টফুড আইটেমও বিক্রি হচ্ছে। এসব দোকানে ঐতিহ্যবাহী ইফতারির পাশাপাশি আধুনিক খাবারের সমারোহ লক্ষ করা গেছে, যা অনেকটা অভিজাত রেস্তোরাঁর পরিবেশকেও স্মরণ করিয়ে দেয়।
বিজ্ঞাপন
দোকানগুলোতে স্প্রিং রোল বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, ফ্রাইড প্রোন ৩০ টাকা, চিকেন স্ট্রিপ ৭০ টাকা, বিফ কোপ্তা ৫০ টাকা এবং চিকেন কোপ্তা ৫০ টাকায়। এ ছাড়া চিকেন শাসলিক ৭০ টাকা, গ্রিল চিকেন ৫০০ টাকা এবং খাসির লেগ রোস্ট ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। ডিম চপ ৩০ টাকা, ভেজিটেবল টোস্ট ৩০ টাকা, চিকেন টোস্ট ৫০ টাকা, ভেজিটেবল রোল ৩০ টাকা এবং চিকেন রোল ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের চিকেন কাবাব ১৫০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, হালিম হাড়ির আকার অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই ব্যস্ততা বা গ্যাস সংকটের কারণে বাসায় রান্না করতে পারছেন না। মিরপুর-৬ নম্বর এলাকার বাসিন্দা তাসনিম জাহান বলেন, বাসায় নিয়মিত গ্যাস থাকে না। তাই বাধ্য হয়েই বাইরে থেকে ইফতারি কিনে খেতে হয়। তবে ভালো লাগছে যে দাম আগের মতোই আছে। শুধু তাসনিম জাহানই নয়; তার মতো আরও অনেকেই জানিয়েছেন, বাজারে বিভিন্ন দামের খাবার থাকায় নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করতে পারছেন।
বিক্রেতারা বলছেন, রমজান মাসের শুরুতে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকে। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে ভিড় তুলনামূলক বেশি হয়। পুরো মাসজুড়েই বিক্রি ভালো থাকবে। পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় রেখে প্রতিদিন নতুন নতুন পদ যুক্ত করার পরিকল্পনাও তাদের রয়েছে।

ইফতার সামগ্রী বিক্রেতা আফজাল হোসেন বলেন, রমজান শুরুর পর থেকেই বিক্রি ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে এবং জুমার দিনের মতো ছুটির দিনগুলোতে ক্রেতাদের চাপ আরও বেশি থাকে। প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই দোকান সাজানোর কাজ শুরু করি, যাতে আসরের আগেই সব ধরনের ইফতার সামগ্রী প্রস্তুত রাখা যায়।
তিনি জানান, বেগুনি, পিঁয়াজু, আলুর চপ, ছোলা, বুটের পাশাপাশি এখন ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ফাস্টফুড আইটেমও রাখা হচ্ছে। তার ভাষ্য, কাঁচামালের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকায় আগের বছরের দামের কাছাকাছিই বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে, এতে ক্রেতারাও সন্তুষ্ট থাকছেন এবং বিক্রিও ভালো হচ্ছে।
এএইচ/এফএ

