পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের আগমুহূর্তে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রাজধানীজুড়ে সড়কে তীব্র যানজট ও গণপরিবহন সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। অফিস শেষে ঘরমুখো মানুষের চাপ, রাস্তায় বাড়তি যানবাহন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বাস চলাচল কমে যাওয়ায় বিকেল থেকেই সড়কগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে। অনেকে গাড়ি না পেয়ে রোজা রেখে পায়ে হেঁটেই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বিকেল গড়াতেই অচল প্রধান সড়ক
বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার পর থেকেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় গুলিস্তান, জিপিও, মতিঝিল, মৎস্য ভবন, শাহবাগ, কাকরাইল ও পল্টন এলাকায় তীব্র যানজট দেখা গেছে। এসব এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়। এসব এলাকার পাশাপাশি মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। যাত্রীরা বলছেন, কোথাও কোথাও এক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ৪০ থেকে ৬০ মিনিট সময় লাগছে। ইফতারের আগে এমন তীব্র যানজটে অনেকের সড়কেই ইফতার করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মতিঝিল থেকে মোহাম্মদপুরগামী এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ইরশাদ হাসান বলেন, অফিস শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। কিন্তু বাস না পেয়ে আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে বাস পেলেও জ্যামে আটকে আছি। কখন বাসায় যাব জানি না। পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে বের হয়ে এখন জ্যামে আটকে আছি। প্রতি বছরের মতো এবারও সড়কে ইফতারের আগে তীব্র যানজট লেগেই আছে। এবারও এর কোনো সমাধান নেই। যানজট নিরসনে কারও কোনো ভূমিকা নেই।
পল্টন থেকে ধানমন্ডিগামী বেসরকারি চাকরিজীবী ওবায়দুর রহমান বলেন, অফিস থেকে বের হয়েছি ঠিকই, কিন্তু গাড়িতে ওঠার মতো অবস্থা নেই। দীর্ঘ জ্যাম লেগে আছে। গুলিস্তান থেকে মতিঝিল, জিপিও মোড়, শাহবাগ পর্যন্ত দীর্ঘ জ্যাম। গাড়িতে উঠলে বাসায় যেতে দেরি হতে পারে। তাই পায়ে হেঁটে রওনা হয়েছি, যতটুকু হেঁটে যাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
এদিকে যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, ইফতারের এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগে অনেক বাসই গ্যারেজমুখী হয়ে পড়ে। ফলে রাস্তায় বাসের সংখ্যা কমে যায়। যে কটি বাস চলাচল করছে, সেগুলোতেও অতিরিক্ত যাত্রী তোলায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সড়কের ওপর ইফতারের দোকান বসায় রাস্তা অনেকটা সরু হয়ে যায়। এজন্য সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়।

অন্যদিকে তীব্র যানজটের ফলে রাইডশেয়ার ও সিএনজির ভাড়াও চড়া। জ্যামের সুযোগে রাইডশেয়ার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া কয়েক গুণ বেড়েছে। স্বল্প দূরত্বের ভাড়াও দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে ইফতারের আগে সাধারণ যাত্রীরা বেশি বিপাকে পড়ছেন।
সাধারণ মানুষ বলছেন, রমজান মাসে অফিস সময়সূচি সমন্বয়, গণপরিবহন চলাচল নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে প্রতিদিন ইফতারের আগে এই দুর্ভোগই নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকবে রাজধানীবাসীর।
এ বিষয়ে ট্রাফিক মতিঝিল বিভাগের সার্জেন্ট রহিম উদ্দিন বলেন, রমজানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিকেলে যানবাহনের চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। একই সময়ে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি ও সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
একেএস/এআর

