রাজধানীর গুলিস্তানে এক মাদকাসক্ত বেপরোয়া বাস চালক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পথচারীরা তাকে ধরে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে ট্রাফিক পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
পরে পুলিশ হৃদয় হোসেন মোল্লা নামে ওই চালককে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায় এবং গুলিস্তান থেকে ভূলতা-গাউছিয়া রুটে চলাচল করা দুর্ঘটনাকবলিত সময় পরিবহনের গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো ব ১৭-৭৬৩২) জব্দ করে।
বিজ্ঞাপন
এ সময় মাদকাসক্ত ওই চালককে ছাড়াতে আসে তার বেশ কয়েকজন বখাটে সহযোগী। তারা উপস্থিত পথচারীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে চালককে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে চায়।
এক পর্যায়ে তারা ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে গাড়ির আঘাতে ছিড়ে যাওয়া জামা কিনে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যায়ের ওই ছাত্রী এতে রাজি না হয়ে পুলিশকে মামলা নিতে বলেন। পরে পুলিশ বাধ্য হয়ে ট্রাফিক আইনে মামলা গ্রহণ করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী জানান, তিনি বাস থেকে নেমে হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলেন। এ সময় অন্য একটি বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বেপরোয়া গতিকে গাড়ি চালাচ্ছিলেন সময় পরিবহনের ওই গাড়ি চালক।
একপর্যায়ে তিনি জীবন বাঁচাতে মুরগীপট্টির কাছে রোড ডিভাইডারের পাশে চলে যান। বেপরোয়া ওই গাড়িটি তাকে অল্পের জন্য পিষে ফেলেনি। তার পরিধেয় জামা গাড়ির ধাক্কায় ছিড়ে যায়। এ সময় অন্য পথচারীরা দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার না করলে গাড়িটির চাকার তলায় পিষ্ট হতেন এ নারী।
বিজ্ঞাপন
পথচারীরা জানান, এ ধরণের চালকদের বিরুদ্ধে প্রায়শই নানা অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সব চালকদের অনেকেই রাতে ছিনতাই এবং দিনের বেলায় ভাড়ায় গাড়ি চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সানারপাড়, সাইনবোর্ড ও শনিরআখড়া এলাকায় প্রায়ই গভীর রাতে যাত্রীদের জিম্মি করে ছিনতাই করে এ ধরণের ছদ্মবেশী মাদকাসক্ত গাড়ি চালক। রাত নামলেই তারা যাত্রীবেশী বেশ কয়েকজনকে নিয়ে মহাসড়কে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে বের হন।
গুলিস্তানে তাদের আছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। চালকবেশী এসব অপরাধীরা ধরা পড়লেই এই চক্র সর্বশক্তি দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
যাত্রীরা এই মাদকাসক্ত গাড়ি চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার মতো মাদকসেবী চালকদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর দাবি করেন।

