শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

নতুন এমপিদের শপথ ঘিরে প্রাণ ফিরেছে সংসদ ভবনে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৯ এএম

শেয়ার করুন:

নতুন এমপিদের শপথ ঘিরে প্রাণ ফিরেছে সংসদ ভবনে
শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষ হওয়ার পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর অপেক্ষায় সবার নজর এখন জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে। শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শেষ হয়েছে সাজসজ্জার কাজও। দক্ষিণ প্লাজায় শপথ মঞ্চ নির্মাণের পাশাপাশি ভবনের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সংস্কার ও পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ হওয়ায় দীর্ঘদিন পর আবারো প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠেছে সংসদ ভবন।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। খোলা আকাশের নিচে আয়োজন করা হচ্ছে এ অনুষ্ঠান।


বিজ্ঞাপন


নির্বাচিত সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। একই দিন বিকাল ৪টায় একই স্থানে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভাও শপথ নেবে। তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

সংসদ ভবন সূত্র জানায়, শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভবনের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। করিডর, লবি, কমিটি কক্ষ, সম্মেলনকক্ষ, প্রধান অধিবেশন কক্ষের আশপাশের এলাকা এবং সদস্যদের নির্ধারিত আসনগুলো ধুয়ে-মুছে ঝকঝকে করা হয়। মেঝে ধোয়া, দেয়াল ও কাঁচ পরিষ্কার, আসবাবপত্র ঘষে চকচকে করা, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা-সবকিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হয়।

নবনির্বাচিত সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষগুলোও নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়। ডেস্ক, চেয়ার, আলমারি, ফাইল কেবিনেট গুছিয়ে রাখা হয়। কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শপথের দিন যেন কোনো কক্ষে অগোছালো অবস্থা না থাকে, সে জন্য প্রতিটি ঘর আলাদাভাবে পরিদর্শন করা হয়। গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলোর সংস্কার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও টাইলস বদলানো হয়েছে, কোথাও রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। ভাঙা কাঠামো মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


Dhaka-1সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত থাকতে পারেন। সে কারণে অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি প্রটোকল ব্যবস্থাপনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। অতিথিদের চলাচলের পথ, বিশ্রাম কক্ষ ও বসার স্থান নতুন করে গুছিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হয়।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে ইসি সূত্র জানায়। 

অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। 

ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দু’টি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর