সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক’ হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে নির্বাচনকে ‘অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে এই নির্বাচন ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়েছে কি না’ তা নিয়ে সামনে আরও প্রশ্ন উঠবে।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের দিন সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের চিত্রও তুলে ধরে টিআইবি। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অনিয়মগুলো হলো:
- ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট মার্কায় ভোট দিতে বাধ্য করা: ৩৫.৭%
- জাল ভোট দেওয়া: ২১.৪%
- বিধি লঙ্ঘন/আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ/অনিয়ম প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা: ২১.৪%
- ভোট গ্রহণের আগেই ব্যালটে সিল মারা: ১৪.৩%
- বুথ দখল: ১৪.৩%
- প্রতিপক্ষের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা: ১৪.৩%
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অসহযোগিতা: ১০.৭%
- রিটার্নিং অফিসারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলক কার্যক্রম: ১০.৭%
- তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগে প্রতিবন্ধকতা (ফোর-জি/ত্রি-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ, সাংবাদিকদের চলাচলে বাধা): ৭.১%
- ভোট কেন্দ্রে তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা: ৭.১%
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ: ৭.১%
- ভোট গণনায় জালিয়াতির অভিযোগ: ৭.১%
- ব্যালট পেপার শেষ হয়ে যাওয়া: ৩.৬%
- নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা: ৩.৬%
- অন্যান্য: ৩.৬%
টিআইবি জাল ভোট ও অনিয়মের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সবার আরও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানায় এবং ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা জোরদারের সুপারিশ করেছে।
এমআর/এফএ

