সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় শিশুসহ নিহত ৩, আহত ৩ শতাধিক: এইচআরএসএস

নিজস্ব প্রতিবেদক 
প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

শেয়ার করুন:

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় শিশুসহ নিহত ৩, আহত ৩ শতাধিক: এইচআরএসএস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী দুই দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় তিনজন নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। ৩০টি জেলায় দুই শতাধিক সহিংস ঘটনার সময় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
 
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক এজাজুল ইসলাম এ তথ্য তুলে ধরেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এজাজুল ইসলাম জানান, নির্বাচন পরবর্তী দুই দিনে ৩০টি জেলায় সহিংসতার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। নিহতদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ ও বাগেরহাটে দুই যুবক এবং ময়মনসিংহে এক শিশু রয়েছে। এ ছাড়া নোয়াখালীতে একটি ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার কথাও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
 
এজাজুল ইসলাম বলেন, অক্টোবর ২০২৫ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত নির্বাচন কেন্দ্রিক সহিংসতায় কমপক্ষে ২,৫০৩ জন আহত এবং ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় নির্বাচন সংক্রান্ত অন্তত ৭০০-এর বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে অন্তত ৩৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচনি কার্যালয় ও ভোট কেন্দ্র ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের শিকার হয়েছে।
 
এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, তফসির ঘোষণা হওয়ার পর ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ২৫৪টি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে এক হাজার ৬৫০ জন আহত এবং পাঁচজন নিহত হন। এই সময় অন্তত ২৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া দুই শতাধিক বাড়িঘর, যানবাহন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচনি কার্যালয় ও ভোট কেন্দ্র ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের শিকার হয়েছে।
 
এজাজুল ইসলাম বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হলেও নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাটে দুই যুবক নিহত হন। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে এক শিশু নিহত হয়েছে।
 
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক বলেন, নির্বাচন কেন্দ্রীক সহিংসতা শুধু ভোট প্রক্রিয়ার উপর নয়, সমাজ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় ঝুঁকি। ভবিষ্যতে নির্বাচনি পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে এসব তথ্য গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


বিজ্ঞাপন


এইচআরএসএস দাবি করেছে, এসব সহিংসতায় বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকেরা জড়িত ছিলেন। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত ৩৫০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও ঘরবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলেও সংস্থাটি উল্লেখ করে।
 
সংস্থাটি জানায়, সারাদেশের অধিকাংশ জেলায় নির্বাচনের দিন অন্তত ৩৯৩টি অপরাধমূলক ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট, পোলিং এজেন্টকে বের করে দেওয়া এবং বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ অন্তর্ভুক্ত।
 
এছাড়া নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে অন্তত ৩০টি জেলায় দুই শতাধিক পৃথক সংঘর্ষ হয়। এতে তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩৫০টি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে বলে এইচআরএসএস জানায়।
 
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়।
 
এএইচ/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর