উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষ হওয়ার পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর অপেক্ষায় এখন সবার নজর জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে। শপথ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে পুরো সংসদ ভবন এলাকা নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। দক্ষিণ প্লাজায় শপথ মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ যেমন চলছে, তেমনি ভবনের অভ্যন্তরে চলছে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস কার্যক্রম।
আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। খোলা আকাশের নিচে আয়োজন করা হচ্ছে এ অনুষ্ঠান। নির্বাচিত সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। একই দিন বিকেল ৪টায় একই স্থানে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভাও শপথ নেবে। তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন।
সংসদ ভবন সূত্র জানায়, শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ভবনের ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। করিডর, লবি, কমিটি কক্ষ, সম্মেলনকক্ষ, প্রধান অধিবেশন কক্ষের আশপাশের এলাকা এবং সদস্যদের নির্ধারিত আসনগুলো ধুয়ে-মুছে ঝকঝকে করা হচ্ছে। মেঝে ধোয়া, দেয়াল ও কাঁচ পরিষ্কার, আসবাবপত্র ঘষে চকচকে করা, বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা—সবকিছু নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে।
নবনির্বাচিত সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষগুলোও নতুনভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ডেস্ক, চেয়ার, আলমারি, ফাইল কেবিনেট গুছিয়ে রাখা হচ্ছে। কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শপথের দিন যেন কোনো কক্ষে অগোছালো অবস্থা না থাকে, সে জন্য প্রতিটি ঘর আলাদাভাবে পরিদর্শন করা হচ্ছে।
গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলোর সংস্কার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও টাইলস বদলানো হয়েছে, কোথাও রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। ভাঙা কাঠামো মেরামত করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শুধু সৌন্দর্য নয়, ভবনের কার্যকারিতাও নিশ্চিত করতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ মঞ্চের অবস্থান, অতিথিদের বসার ব্যবস্থা, গণমাধ্যমকর্মীদের নির্ধারিত স্থান এবং নিরাপত্তা বলয় কীভাবে গড়ে তোলা হবে—এসব বিষয় নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক ও পরিদর্শন চলছে। সকাল থেকেই সরকারের বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সংসদ ভবনে আসা-যাওয়া করতে দেখা গেছে। কোথায় প্রবেশপথ খোলা থাকবে, কোথায় সীমিত প্রবেশাধিকার থাকবে—এসব বিষয়ও নির্ধারণ করা হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, শপথ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত থাকতে পারেন। সে কারণে অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি প্রটোকল ব্যবস্থাপনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। অতিথিদের চলাচলের পথ, বিশ্রাম কক্ষ ও বসার স্থান নতুন করে গুছিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সংসদ ভবন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাইরের সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল থাকলেও ভেতরে প্রস্তুতির ব্যস্ততা স্পষ্ট। কেউ করিডর পরিষ্কার করছেন, কেউ আলোর সংযোগ পরীক্ষা করছেন, কেউ আবার আসন বিন্যাস করছেন। পুরো পরিবেশে এক ধরনের নীরব কিন্তু সংগঠিত কর্মতৎপরতা লক্ষ করা গেছে। তবে সংসদ ভবনের সামনের সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে বসা অস্থায়ী দোকানপাট এখনো পুরোপুরি সরানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে যে দোকান বসেছে, তা শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে কি না—সেই প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়েও আলোচনা চলছে। সরকারি সূত্র বলছে, সরকার গঠনের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্ভাব্য বাসভবন হিসেবে ‘যমুনা’র নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত ঘোষণা এখনো হয়নি। এবারের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে প্রায় দুই দশক পর আবারও সরকার গঠন হতে যাচ্ছে। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয় এবং ২৯৭ আসনের ফল ঘোষণা করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে।
এএইচ/ক.ম

