রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ভোট পরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

police
পুলিশ। ফাইল ছবি

ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা শেষ হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কিছু কিছু জায়গায় বিরোধী মতের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তরুণদের দল এনসিপি থেকেও এমন অভিযোগ করা হয়েছে। 

আইনশঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে, যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েক হাজার রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তত আছে। ঝুঁকিপূর্ণ কিছু এলাকা চিহিৃত করে সেসব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও গুজব ছড়ানো বন্ধেও কড়া নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। 


বিজ্ঞাপন


নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশকে ১৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) পর্যন্ত মাঠে থাকতে বলা হয়েছে। তারা সেই অনুসারে কাজও করছেন। 

ভোটের পরদিন (শুক্রবার) দিনভর উত্তরের জেলা ছাড়াও কিছু জায়গায় এনসিপি কর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও তাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা।   

রংপুরে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর বেছে বেছে হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। শুক্রবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিযোগ করেন।

আখতার লেখেন, ‘বিকেল থেকে হারাগাছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা মাইকে ঘোষণা দিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের ধরে ধরে আক্রমণ করছে। মারধর করে রক্তাক্ত করছে। অনেকগুলো বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটপাট করেছে। মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে। আগুন দিয়ে বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ক্ষমতায় আসতে না আসতেই বিএনপি হারাগাছে সন্ত্রাস শুরু করেছে।’


বিজ্ঞাপন


এর আগে একই ধরনের অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও দলটির নেতা সারজিস আলম। ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে এনসিপি এবং ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। তাদের বাড়িঘর এবং পরিবার হুমকির সম্মুখীন। যারা বিজয়ী হয়েছেন, তারা আপনাদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করুন। গণতান্ত্রিক উত্তরণের শুরুটাই যদি বিরোধী দল ও মতের মানুষদের নিপীড়নের মধ্য দিয়ে হয়, তা আমাদের জন্য লজ্জাজনক হবে।

সারজিস আলম তার পোস্টে লেখেন, এখন পর্যন্ত পঞ্চগড়-১ আসনে প্রায় ৩০টির বেশি জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর, তাদের বাড়িঘরে ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করেছে, হুমকি দিয়েছে। অনেকে পালিয়ে আছে। বিএনপি কি এখনো পুরনো কায়দায় প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চায় কি না, সেটা বিএনপিকে স্পষ্ট করতে হবে।

এবার শুরু থেকে প্রশাসন সতর্ক থাকায় তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যদিও খোদ ঢাকায় ৩৭ টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ওইসব কেন্দ্রে নিরাপত্তায় একজন এসআইসহ ছয়জন করে পুলিশের সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। 

তবে নির্বাচন শুরুর আগেই পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তারা সেই নির্দেশনা অনুসারে কাজ করছেন। ভোটের আগের দিন থেকে দেশের বিভিন্ন সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে নিয়মিত চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশীর কাজ চালিয়েছেন তারা। একই কাজ করেছে সেনাবাহিনীও। তারা ভোটের আগের দিন থেকে মাঠে ছিল। আরও ছিল বিজিবি ও র‌্যাব। ছিল সাদা পোশাকের গোয়েন্দারাও। 

ঢাকার যেসব আসনে ফলাফল ঘোষণার আগে ও পরে গণ্ডগোল হয়েছে, সেগুলোতে কড়া নজরদারি করছে পুলিশ। পরাজিত প্রার্থীদের বাসাবাড়ি, তাদের কর্মীদের ওপর হামলার কোনো আশঙ্কা আছে কি না, তারও তথ্য সংগ্রহ করছেন গোয়েন্দারা। 

এদিকে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটিকে ঘিরেও যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোবাবিলায় সাদা পোশাকে মাঠে রয়েছে পুলিশ।

ঢাকায় আজ থেকে যানবাহন বাড়তে শুরু করেছে। ফলে আগের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ কাজ করছে বলে জানা গেছে। জাতীয় জরুরি সেবায় আসা কলগুলোকে নজরে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ তালেবুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘পুলিশ ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে। তারা আগের নির্দেশনা অনুসার কাজ করছেন। নিয়মিত তল্লাশী, টহল অব্যাহত রেখেছেন।’    

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সাহাদাত হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘নির্বাচন-পরবর্তী সময়কে ঘিরে সম্ভাব্য উত্তেজনা, প্রতিশোধমূলক হামলা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার রয়েছে। নিয়মিত টহল, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।’

এমআইকে/এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর