শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

হামলা-অগ্নিসংযোগ বন্ধ না হলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব: ডা. শফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

হামলা-অগ্নিসংযোগ বন্ধ না হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি জামায়াত আমিরের
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির।

দেশজুড়ে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কর্মী-সমর্থক, এজেন্ট ও ভোটারদের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ বন্ধ না হলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।


বিজ্ঞাপন


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কর্মী-সমর্থক, এজেন্ট ও ভোটারদের বাড়িতে হামলা, ব্যক্তির ওপর আক্রমণ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এটি ফ্যাসিবাদী তৎপরতা। যে ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপের ওপর ২০২৬ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই নির্বাচনের পরও যদি একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায়, তবে তা জাতির জন্য দুঃখজনক।

তিনি বলেন, এ ধরনের অপকর্মে যারা জড়িত, দায় তাদেরই নিতে হবে। তারা যদি ইতিবাচক ধারার রাজনীতি না চান, তবে জোর করে ইতিবাচক রাজনীতি করা সম্ভব নয়।

নির্বাচনে যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েছে—যেভাবেই পেয়ে থাকুক—সে বিষয়ে তাদের যথেষ্ট আপত্তি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা সরকার গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দায়িত্ব। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। এসব ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে তারা যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার, এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হকের নির্বাচনী ফলাফল নিয়েও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। এ বিষয়ে সুষ্ঠু ব্যাখ্যা ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান তিনি।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীনের ক্ষেত্রে যে কারণে ফল গ্রহণ করা হয়েছে, মামুনুল হকের ক্ষেত্রে তা বাতিল করা হয়েছে। সেক্রেটারির আসনসহ কয়েকটি আসনে এমন ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা প্রতিকার চাইবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিকার না পেলে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, কয়েকটি স্থানে হঠাৎ ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। এগিয়ে থাকার পরও পরাজিত দেখানো হয়েছে। অনেক জায়গায় কষ্ট করে ফল নিজেদের অনুকূলে ধরে রাখতে হয়েছে। কোথাও কোথাও ফলাফল ঘষামাজা ও পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে। কেন্দ্র দখলের ঘটনাকেও তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।

বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা যা দেখেছেন, তা তারা তুলে ধরবেন জানিয়ে তিনি বলেন, তারাও নিজেদের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করবেন। দেশে আবার কালো অধ্যায়ের রাজনীতি ফিরে আসুক, তা তারা চান না।

ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, তাদের ভদ্রতা ও ইতিবাচক আচরণকে দুর্বলতা মনে করলে ভুল হবে। ইতিবাচক অবস্থান জানানোর পরও বিভিন্ন স্থানে কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা হচ্ছে, যা ফ্যাসিবাদী লক্ষণ। ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে তারা ছাড় দেবেন না। সংবিধানের আলোকে সবাই সমান এবং সবার জন্য একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা আরও শক্তভাবে জনগণের পাশে থাকবেন। তরুণ সমাজ যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, সেই প্রত্যাশা পূরণে তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন। তাদের অবস্থান আপামর জনগণের পক্ষে। বাধ্য করা হলে রাজপথেও নামবেন।

নিয়মতান্ত্রিকভাবে ১১ দলকে কার্যক্রম চালাতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আরপিওর আওতায় না পড়া বিষয়গুলোতে ফলাফল স্থগিত রেখে সুরাহা করা হোক।

তিনি আরও বলেন, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হয়েছে। জুলাই সনদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে, না হলে তারা প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবেন। অনেক নিয়মবহির্ভূত কাজের পরও একটি দল সন্তুষ্ট নয়, উল্টো অভিযোগ করছে। তাদের প্রশ্ন, আর কী চায় তারা।

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর