বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ভরসা এখন মেট্রোরেল!

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

ভরসা এখন মেট্রোরেল!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রাজধানীর সড়কে গণপরিবহন চলাচল কমে গেছে। ব্যস্ত মোড়গুলোতে আগের মতো যানজট নেই, বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘ লাইনও চোখে পড়ে না। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা বলছেন, ভোট উপলক্ষে অনেক চালক, সহকারী ও কর্মচারী নিজ নিজ জেলায় চলে গেছেন। নির্বাচন কমিশনের যান চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধের ফলে নগরীর সড়কভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থায় এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে রাজধানীবাসীর প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে মেট্রোরেল।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে মোটরসাইকেল চলাচল ৭২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রয়েছে। এছাড়া বুধবার রাত ১২টা থেকে ভোটগ্রহণের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকরা এ নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। ইসির অনুমোদিত স্টিকারযুক্ত যানবাহন চলাচল করতে পারছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে ভোটারদের জন্য। তবে গণপরিবহনের ঘাটতি সাধারণ মানুষের চলাচলে বড় প্রভাব ফেলেছে।


বিজ্ঞাপন


এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রাজধানীতে মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, ভোটের দিন যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। নিয়মিত সময়সূচি বজায় রেখে সেবা চালু থাকায় অনেকে বিকল্প ভাবনা না করে সরাসরি মেট্রোস্টেশনের দিকে যাচ্ছেন। বিশেষ করে মিরপুর, আগারগাঁও, ফার্মগেট ও মতিঝিল স্টেশনগুলোতে যাত্রীচাপ থাকলেও তা নিয়ন্ত্রিত।

metro-rail.1

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। মিরপুর, ফার্মগেট, শাহবাগ ও মতিঝিল এলাকার ব্যস্ত মোড়গুলোতে যানজট নেই বললেই চলে। অনেক বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকলেও বাসের উপস্থিতি কম। কয়েকটি রুটে দীর্ঘ সময় পরপর একটি-দুটি বাস আসছে, তাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যাত্রীতে পূর্ণ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চালক ও সহকারীদের একটি বড় অংশ নিজ নিজ জেলায় চলে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। আগারগাঁও ও মিরপুর-১০ স্টেশনে সকাল থেকেই যাত্রীদের উপস্থিতি থাকলেও বিশৃঙ্খলা নেই। টিকিট কাউন্টার ও স্বয়ংক্রিয় মেশিনের সামনে সারিবদ্ধ লাইন, নিরাপত্তা তল্লাশি শেষে দ্রুত প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছেন যাত্রীরা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ট্রেন আসছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের দিকে ছুটে যাচ্ছে। অনেক যাত্রী জানান, বাসের জন্য অপেক্ষা না করে সরাসরি মেট্রোস্টেশনে চলে আসছেন তারা।


বিজ্ঞাপন


স্টেশন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ দোকান ও ছোট ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম। শহরজুড়ে মানুষের চলাচল সীমিত থাকলেও মেট্রোরেলকেন্দ্রিক এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য কিছুটা বেশি। নির্বাচনকালীন বিধিনিষেধের মধ্যেও মেট্রোরেল সচল থাকায় যাত্রীদের মুখে স্বস্তির ছাপ লক্ষ্য করা গেছে।

মিরপুরের বাসিন্দা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ভোটের কারণে বাসচালকদের বড় একটি অংশ গ্রামে চলে যাওয়ায় সড়কে বাসের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। আগে অফিস সময়ে কিছুক্ষণ দাঁড়ালেই বাস পাওয়া যেত, এখন অনেক সময় অপেক্ষা করেও মিলছে না। দুর্ভোগ দেখে মেট্রোরেলে আসলাম। এখন অন্তত সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন আসে এবং যানজট ছাড়াই গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।

metro-rail.1

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান বলেন, নির্বাচন ঘিরে অনেক শিক্ষার্থী নিজ নিজ জেলায় চলে যাওয়ায় শহরে মানুষের উপস্থিতি কম। বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়, অনেক সময় ভিড়ের কারণে ওঠাই যায় না। মেট্রোরেলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা দুই-ই আছে। 

কারওয়ান বাজারে কর্মরত মো. আরিফ হোসেন জানান, অফিসের বেশ কয়েকজন সহকর্মী ভোট দিতে গ্রামে গেছেন। যারা শহরে আছেন, তাদের অনেকেই পরিবহন সংকটে ভুগছেন। রাইড শেয়ারিং সেবার ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সেটিও সবার নাগালে নেই।

তিনি বলেন, মেট্রোরেল না থাকলে হয়তো নিয়মিত অফিসে আসা সম্ভব হতো না। আগে যানজটে আটকে থেকে অনেক সময় নষ্ট হতো, এখন অন্তত সেই দুশ্চিন্তা নেই। নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছাতে পারায় কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে মেট্রোরেলের রুট বাড়ানো গেলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে বড় দোকান, শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। পর্যটন এলাকাগুলোতেও বহিরাগতদের অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ব্যবসা সীমিত। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস লেনদেনেও সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। তবে এই সময়ের সড়কভিত্তিক গণপরিবহন কমে গেলে নগরজীবন দ্রুত চাপে পড়ে। সেই চাপ অনেকটাই সামাল দিচ্ছে মেট্রোরেল। নির্বাচনকালীন বিধিনিষেধের মধ্যেও সচল এই সেবা রাজধানীকে পুরোপুরি অচল হতে দেয়নি। তাই অনেকের মুখে এখন একটাই কথা, ভরসা এখন মেট্রোরেল।

এএইচ/এএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর