বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নতুন সরকারের হাতে দায়িত্ব অর্পণে অধীর অপেক্ষা করছি: ড. ইউনূস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

CA
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন প্রদান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি- সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদের ভোটের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবে, সেই নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব অর্পণে অন্তর্বর্তী সরকার অধীর হয়ে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস। 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাতটায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কথাটি জানান নোবেল জয়ী এই অধ্যাপক। 


বিজ্ঞাপন


সম্প্রতি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত সরকারের কাছে সহসাই ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না, প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রমের জন্য আরও অন্তত ছয় মাস থাকবে। 

সেই প্রসঙ্গ তুলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন নতুন করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে, অন্তর্বর্তী সরকার নাকি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণে বিঘ্ন সৃষ্টি করা।’

তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিত থাকুন, নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুততম সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার তার দায়িত্ব সমাপ্ত করবে।’


বিজ্ঞাপন


এদিনের ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা সব দলের প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, নির্বাচনে ফলাফল যা-ই হোক, তা যেন প্রার্থীরা মেনে নেন। প্রার্থীরা যেন ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সেই নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে সরকারপ্রধান হিসেবে এ ভাষণ দিলেন ড. ইউনূস।

তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করছি না, একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। আমরা কি একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে পারব, নাকি আবারও পুরনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃত্তে ফিরে যাবো—এই প্রশ্নের উত্তর দেবে গণভোট।’

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরও ব্যাপকভাবে দায়িত্বে রাখা হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা দ্রুত ও কঠোরভাবে প্রতিহত করা যায়। অনেক কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে।

জুলাই সনদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘দীর্ঘ নয় মাস ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়েছে। এই সনদের মাধ্যমে আমরা সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছি।’

তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, শাসনব্যবস্থায় জবাবদিহিতা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সমাজে সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ-এসবের সফল বাস্তবায়ন এককভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রের মাধ্যমে সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। 

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত।’ এসময় দেশের সকল ভোটারকে স্ব স্ব কেন্দ্রে গিয়ে স্বতস্ফূর্তভাবে ভোটদানের আহ্বানও জানান তিনি।

এএইচ 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর