জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর ফকিরাপুল, গুলিস্তান ও সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা গেছে গ্রামমুখী মানুষের ব্যাপক ভিড়। সারাদিন এসব এলাকায় দেশের বিভিন্ন জেলার ভোটারদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয়েছে যাত্রীচাপ। ভোটাধিকার প্রয়োগের তাগিদে বহু মানুষ কর্মস্থল ছেড়ে গ্রামে ফিরছেন পরিবার-পরিজনের কাছে। বাসের সংকটকে কেন্দ্র করে অনেক পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। কেউ কেউ স্বাভাবিক ভাড়ার দ্বিগুণ বা তারও বেশি গুনতে বাধ্য হচ্ছেন। ভাড়া বৃদ্ধি ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বাস না পেয়ে অনেকে বিকল্প হিসেবে ট্রাক, পিকআপ ও খোলা যানবাহনে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা শুরু করেছেন। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাড়া বৃদ্ধি, দুর্ভোগ কিংবা অনিরাপদ যাত্রাপথ—কোনোটিই ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে তাদের বিরত রাখতে পারেনি। বরং ভোটের দিনটিকে উৎসবের মতো দেখছেন অনেকেই। গ্রামে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে ভোট দেওয়ার আনন্দ তাদের কষ্ট ভুলিয়ে দিচ্ছে। অনেক যাত্রী জানান, ভোট দেওয়া শুধু রাজনৈতিক অধিকার নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ব। তাই সব বাধা অতিক্রম করেই তারা বাড়ি ফিরছেন। গ্রামগুলোতেও নির্বাচনী আমেজ, আত্মীয়স্বজনের মিলন ও ভোটকেন্দ্র ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। কুমিল্লার যাত্রী রাশেদ আলী বলেন, আমি ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করি। বহুদিন পরে আমরা ভোট দিতে পারব, এ জন্য বাড়িতে যাব। পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করে তাকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাসের ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি নিচ্ছে, তবুও দিয়েছি। কারণ ভোট না দিলে পরে আফসোস হবে। ভোট দেওয়া আমাদের অধিকার, এটা আর কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। মাদারীপুরের যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সকালে এসেছি, বাসস্ট্যান্ডে ঘুরেও বাস পাইনি। শেষ পর্যন্ত কয়েকজন মিলে ট্রাকে উঠেছি। ঝুঁকি আছে জানি, কিন্তু এই ঝুঁকি নিতে রাজি। এতে কিছুটা টাকাও সাশ্রয় হবে। গ্রামে সবাই ভোট নিয়ে খুব উচ্ছ্বসিত। ফোনে কথা বললে বুঝি কতটা আনন্দ তাদের। ভাড়া বেশি, ভোগান্তিও কম না, কিন্তু নিজের ভোট নিজে দেওয়ার আনন্দের সঙ্গে এর তুলনা হয় না। নোয়াখালীর যাত্রী শিউলি আক্তার বলেন, আমি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। বাসের ভাড়া অনেক বেশি চাচ্ছে, কিন্তু কিছু বলতে পারছি না, সবাই এভাবেই যাচ্ছে। তদারকি নেই, বলে কী হবে। ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে চাইনি। অনেক দিন পর পরিবার নিয়ে একসঙ্গে ভোট দিতে যাব—এই ভাবনাটাই আমাকে আনন্দ দিচ্ছে। নোয়াখালীর যাত্রী মুজাহিদ হাসান বলেন, রাজনীতিতে খুব একটা জড়িত নই, কিন্তু ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছি। সংসদ নির্বাচনে এবারই প্রথম ভোট দিচ্ছি। পরিস্থিতি একটু কঠিন, ভাড়া বেশি। তবুও সিদ্ধান্ত বদলাইনি। ভোটের দিন বারবার আসে না। আজ কষ্ট করলে আগামী দিনের জন্য কিছু বলার অধিকার থাকবে।



