মালয়েশিয়া থেকে কনটেইনার ভর্তি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসার পথে থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে একটি জাহাজ ডুবে গেছে। তবে জাহাজটিতে থাকা ১৬ জন বাংলাদেশি নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে থাই নৌবাহিনীর একটি দল। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জাহাজটি পানামা পতাকাবাহী ‘এমভি সিলয়েড এআরসি’।
জাহাজটি ফুকেট উপকূল থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে হঠাৎ করে প্রায় ৩০ ডিগ্রি কাত হয়ে ডুবে যায় বলে নিশ্চিত করে জাহাজটির বাংলাদেশি এজেন্ট প্রতিষ্ঠান- আলভি লাইন্স বাংলাদেশ। তবে থাই গণমাধ্যম আমারিন টিভি জানিয়েছে, ৪ হাজার ৩৩৯ টন ওজনের পানামা পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজটি উপকূল থেকে প্রায় ১০ নটিক্যাল মাইল দূরে কোহ কাও নইয়ের কাছে ডুবে যায়।
বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন করেছে থাই গণমাধ্যম ম্যাথিকনও। গণমাধ্যমটির অনলাইনে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজডুবির পর ১৬ নাবিককেই উদ্ধার করা হয়েছে। তারা সবাই সুস্থ আছেন।
থাই গণমাধ্যমগুলো খবর বলছে, জাহাজডুবির ঘটনায় থাই নৌবাহিনীর অঞ্চল-৩ অপারেশন সেন্টার তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ওই সময় সহায়তার জন্য যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানগুলোকে দ্রুত ওই অঞ্চলে যেতে নির্দেশ দেয়।
এসময় সম্ভাব্য তেল ছড়িয়ে পড়ার উপর নজরদারি করতে এবং সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব রোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বয় হয়ে কাজ করে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন থাই নৌবাহিনীর মুখপাত্র আরএডিএম পারাচ রত্তানাচাইয়াপান আমারিন।
এ বিষয়ে আলভি লাইন্স বাংলাদেশের অপারেশনাল ম্যানেজার বোরহান উদ্দিন বলেন, জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং থেকে কনটেইনারবোঝাই পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘জাহাজে থাকা ১৬ জন নাবিকই বাংলাদেশি। দুর্ঘটনার পর ক্যাপ্টেন জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।’
‘পরে থাই নেভির একটি দল নাবিকদের উদ্ধার করে ফুকেটের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। বর্তমানে সবাই সুস্থ রয়েছেন’, যোগ করেন বোরহান উদ্দিন।
উদ্ধার হওয়া নাবিকরা কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে ফিরবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে কী কারণে জাহাজটির এমন হলো তা তাৎক্ষণিকভাবে কারণ জানতে পারেননি তিনি।
আলভি লাইন্স বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি গত ৫ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাহাজটির চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল বলেও জানা গেছে।
এএম




