সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

জুলাই বিপ্লব নগর উন্নয়নের ভিত্তি দৃঢ় করছে: বিআইপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

জুলাই বিপ্লব নগর উন্নয়নের ভিত্তি দৃঢ় করছে: বিআইপি

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই বিপ্লব শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনই আনেনি, বরং দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নগর উন্নয়নের ভিত্তি শক্ত করার একটি সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে প্ল্যানার্স টাওয়ারের সপ্তম তলায় বিআইপি কনফারেন্স হলরুমে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ ইশতেহার পর্যালোচনা: পরিকল্পনা, নগরায়ণ ও টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্য ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান।


বিজ্ঞাপন


ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের ইশতেহারে পরিকল্পনা, নগরায়ন, পরিবহন, পরিবেশ, আবাসন ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার করেছে। তবে এসব অঙ্গীকার যেন শুধু প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেজন্য প্রয়োজন সমগ্র দেশভিত্তিক একটি সমন্বিত স্থানিক পরিকল্পনা কাঠামো। পুরো দেশকে একসঙ্গে বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে এক খাতের উন্নয়ন অন্য খাতের জন্য প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায় এবং উন্নয়নের সুফল জনগণ পায় না।

তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ইশতেহারের পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট দিকগুলো তুলে ধরে বলেন, উচ্চ আবাসনের মাধ্যমে নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা, উর্বর কৃষিজমি সংরক্ষণ, সেকেন্ডারি সিটি উন্নয়নের মাধ্যমে ঢাকার ওপর চাপ কমানো, হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিকেন্দ্রীকরণ, আধুনিক পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, মেট্রোরেল, মনোরেল, ইলেকট্রিক যানবাহন, বৃত্তাকার নৌপথ ও রিংরোড বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলো ইতিবাচক। পরিবেশ সংরক্ষণে নদী, খাল ও পাহাড় রক্ষা, সবুজ বিপ্লব, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং কার্বন ট্রেডিংয়ের মতো উদ্যোগগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটি পরিকল্পিত নগরায়ন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, কৃষিজমি সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীল শহর, বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় সরকারকে কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সব শহরের জন্য মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, নিরাপদ আবাসন, অগ্নি ও ভূমিকম্প নিরাপত্তা এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এনসিপির ইশতেহার পর্যালোচনায় ড. আরিফুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ন ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় আইনগত বাধ্যবাধকতা, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল যেমন হাওর, চর, পাহাড় ও দ্বীপাঞ্চলের জন্য পৃথক পরিকল্পনা, পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি বাধ্যতামূলক করা, গ্রাম পার্লামেন্ট চালু এবং স্যাটেলাইট টাউনশিপ গঠনের প্রস্তাবগুলো নতুন চিন্তার প্রতিফলন।


বিজ্ঞাপন


তিনি আরো বলেন, সব দলের ইশতেহারেই বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে অতীত সরকারগুলো স্থানীয় সরকারকে কার্যকরভাবে ক্ষমতায়ন করতে পারেনি। অথচ দেশের জনসংখ্যা ও নগরচাপ সুষমভাবে বণ্টনের জন্য বিকেন্দ্রীকরণ অত্যন্ত জরুরি।

বিআইপি সভাপতি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করতে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনার ভিত্তিতে আঞ্চলিক ও স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে শ্রমিকবান্ধব, পরিবহন, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবাসহ পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে।

নগর আবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন, ভাড়া ভিত্তিক সামাজিক আবাসন, খোলা স্থান ও খেলার মাঠ সংরক্ষণ এবং গ্রামীণ এলাকায় মানসম্মত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতার বিষয়ে নদী, খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার, বায়ু ও পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নগর জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, আগামী দিনে সরকার যেই গঠন করুক না কেন, পরিকল্পনাবিদরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দেশের স্বার্থে কাজ করতে প্রস্তুত। রাজনৈতিক অঙ্গীকার যেন বাস্তবায়নে রূপ নেয়, সে বিষয়ে পেশাজীবী ও নাগরিক হিসেবে বিআইপি সবসময় সজাগ থাকবে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

এএইচ/এফএ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর