শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মী–সমর্থকদের কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের হামলায় ঢাকা মেইলের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার শামীম হোসেনসহ একাধিক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এছাড়া পে-কমিশনের দাবিতে সরকারি চাকরিজীবীদের আন্দোলনের সময়ও পুলিশ সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে।
শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) দিনভর একাধিকবার আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার সময় সাংবাদিকদের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে পুলিশ টার্গেট করে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর আহত হন শামীম হোসেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পুলিশের ছোড়া একটি টিয়ারশেল তার হাতে লাগে। এতে তার হাতের একটি আঙ্গুলের নখ উঠে যায়। এছাড়াও শামীমের মোবাইল ফোনটিও হারিয়ে যায়। পরে শাহবাগে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (পিজি) চিকিৎসা নেন তিনি।
এদিকে শামীম ছাড়াও ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি হামলার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আহত সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা পরিচয়পত্র ও ক্যামেরা সঙ্গে রেখেই পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরপরও পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ ও ধাক্কাধাক্কি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকর্মীরা একে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হামলা হিসেবে উল্লেখ করে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা সাংবিধানিক অধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এদিকে এমন ঘটনাকে দুঃখজনক দাবি করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেছেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক। যারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেবো।
বিইউ/এমএইচআর

