ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিতে এসে পুলিশের হামলায় আহত হয়েছেন এক শিক্ষার্থী। লাঠিচার্জে তাঁর ডান হাত ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আহত ওই শিক্ষার্থীর নাম আবদুল্লাহ।
শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে বসে ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানান আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, শরীরের রক্তের বিনিময়ে স্বৈরাচার পতন ঘটিয়ে যে সরকারকে ক্ষমতায় আনা হয়েছিল, সেই সরকারের আমলেই পুলিশের হাতে রক্তাক্ত হতে হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আবদুল্লাহ জানান, বিকেলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে আন্দোলন শেষে তিনি শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেখানে পুলিশের লাঠিচার্জে তাঁর ডান হাত ভেঙে যায়।
তিনি বলেন, সন্ধ্যার দিকে শাহবাগ মোড়ে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে তাঁরা অবস্থান নেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর পুলিশ আবারও হামলা চালায়। এ সময় আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা করা হয়। পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। অনেককে লক্ষ্য করে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচি ঘিরে রণক্ষেত্র শাহবাগ, আহত ৯৬
আবদুল্লাহ আরও বলেন, স্বৈরাচার সরকারের সময় কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই গ্রেপ্তার, গুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হতো। সে সময় রাজপথে নেমে আন্দোলন করেছিলেন তাঁরা। সেই আন্দোলনের রক্তের বিনিময়েই স্বৈরাচারের পতন হয়েছিল। এখন একই কায়দায় পুলিশের হামলায় আন্দোলনকারীদের রক্ত ঝরানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ সামনের সারির অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কারও হাতে, কারও মাথায় আবার কারও শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
আবদুল্লাহ বলেন, যাঁরা স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে সম্মুখসারিতে ছিলেন, তাঁদেরই বেশি লক্ষ্য করে মারধর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের পদত্যাগ দাবি করেন এবং পুলিশের হামলার বিচার চান। বিচার না হলে জুলাই আন্দোলনের মতো আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
একেএস/এআর

