রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান ও সোনা মিয়ার টেক্কি এলাকায় প্রকাশ্যে দুই তরুণকে কুপিয়ে হত্যা ঘটনায় জড়িত এবং চিহ্নিত মাদক কারবারি শাওনকে অভিযান চালিয়ে চার সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে সেনাবাহিনী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টায় মোহাম্মদপুরের সোনা মিয়ার টেক্কি ও চাঁদ উদ্যান এলাকায় এই বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- শাওন,আনোয়ার, শাকিল, শুভ ও বেলাল।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৮টি পেট্রোল বোমা, ৫ রাউন্ড শটগানের গুলি, ১টি চাইনিজ ছুরি, ৮টি সামুরাই, ৫টি চাপাতি, ১টি রামদা, ৬১টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩৫ গ্রাম ভাঙ্গা ইয়াবা, ৪৭৫ গ্রাম ও ৬০ পুরিয়া গাঁজা, ৪টি মোবাইল ফোন, ৫৮টি বিদেশি কয়েন এবং মাদক পরিমাপের একটি ওজন মেশিন উদ্ধার করা হয়।
সেনাবাহিনীর বসিলা ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা তালিকাভুক্ত হত্যা মামলার আসামি শাওন ওই এলাকায় অবস্থান করছিল। গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে প্রকাশ্যে একজন তরুণকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তাকে শনাক্ত করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি অপারেশন দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে শাওনকে গ্রেফতার করে। একই অভিযানে তার সহযোগী আরও চারজন গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘শাওন গত বছর প্রকাশ্য দিবালোকে এক তরুণকে ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাকে শনাক্ত করা হয়। তাকে গ্রেফতারে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও সে আত্মগোপনে ছিল। অবশেষে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে তাকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শাওনের বড় ভাই নয়ন থানা পুলিশসহ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স। বাবা পিন্টু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ফলে শাওন ছিলো অপ্রতিরোধ্য। মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় হত্যা, মাদক কারবার, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ করলেও থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতো না। এমন কী অন্য বাহিনী অভিযান চালালেও নয়ন তার ভাইকে সরিয়ে দিত। এমন কী পুলিশের সোর্স হলেও আসামি গ্রেফতারে নিজে হ্যান্ডকাফ নিয়ে ঘুরতো নয়ন, আসামি ধরলে তাদের মারধর করার অভিযোগও রয়েছে নয়নের বিরুদ্ধে। ভাই ও বাবার পরিচয়ে সোনা মিয়ার টেক্কিতে কিশোর গ্যাং চালানোসহ নিজের দুর্গ গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলো শাওন।
গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
একেএস/এমআই

