বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সহিংসতা এড়াতে পুলিশের সতর্ক বার্তা

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

police
ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে অর্ধশত আসনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। এসব আসনে সহিংসতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বাড়তি নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত হচ্ছে পুলিশ। এ নিয়ে ইতোমধ্যেই সেসব জেলার এসপিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের তথ্যমতে, এবার সারাদেশে ৫৩ জেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র রয়েছে। তবে ঝুঁকিকে কয়েকভাগে ভাগ করা হয়েছে—বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতিঝুঁকিপূর্ণ। অতিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ১৩টি জেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে জোর করে ব্যালট পেপারে সিল মারা, ভোট কেন্দ্র দখল, প্রচারণায় বাধা দেওয়া, আধিপত্য বিস্তার, হামলার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এই বিষয়গুলোকে মাথায় রেখে প্রতিবারের মতো এবারও পুলিশ এসব জেলাকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট জেলার এসপিদের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া ৪৫টি জেলা মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


বিগত সময়ে যেসব আসনে নির্বাচনকালে সংঘর্ষ হয়েছে, সেসব পুরনো ইতিহাস ও তথ্য ধরে তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে। তবে পুলিশ এসব আসনে সংঘর্ষ এড়াতে নিরাপত্তা নিয়ে নানা পরিকল্পনায় মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ আসনগুলো:
গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র বলছে, ১৩টি অতিঝুঁকিপূর্ণ আসনের মধ্যে ঢাকায় রয়েছে তিনটি—ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, ঢাকা-৭। এর বাইরে রয়েছে পাবনা-১ ও ৩, খুলনা-৫, পটুয়াখালী-৩, বরিশাল-৫, টাঙ্গাইল-৪, শেরপুর-৩, কুমিল্লা-৪, নোয়াখালী-৬ ও চট্টগ্রাম-১৫।

আরও পড়ুন: নির্বাচনি কার্যক্রম সমন্বয়ে ইসির উচ্চপর্যায়ের সভা বুধবার

৪৫টি আসনকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা-১০, নারায়ণগঞ্জ-৩, ময়মনসিংহ-১০, ময়মনসিংহ-১১, নেত্রকোণা-৩, কিশোরগঞ্জ-৫, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ফরিদপুর-৪, সুনামগঞ্জ-২, মৌলভীবাজার-৩, কুমিল্লা-১১, চাঁদপুর-৪, নোয়াখালী-২, চট্টগ্রাম-১৪, চট্টগ্রাম-১৬, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-১, ঠাকুরগাঁও-৩, লালমনিরহাট-১, ঝিনাইদহ-৪, যশোর-২, খুলনা-৪, সাতক্ষীরা-১, বরগুনা-২, পটুয়াখালী-২, ভোলা-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-২, টাঙ্গাইল-৮, রংপুর-৩, রংপুর-৪, গাইবান্ধা-৫, বগুড়া-২, বগুড়া-৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩, রাজশাহী-১, রাজশাহী-২, নাটোর-১, সিরাজগঞ্জ-৪, কুষ্টিয়া-১, কুষ্টিয়া-৩, চুয়াডাঙ্গা-১, ঝিনাইদহ-৩ রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


অতিঝুঁকিপূর্ণ ও মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ ছাড়াও, বিগত সময়ে যেসব আসনে নির্বাচনী সংঘর্ষ হয়েছে, সেই সংখ্যা ৫১ বলে পুলিশ। এই আসনগুলো হলো ঢাকা-১৫, কুমিল্লা-১১, যশোর-৫, কুমিল্লা-৯, বাগেরহাট-১, খুলনা-৩, শরীয়তপুর-১, সিরাজগঞ্জ-১, ঢাকা-১২, ভোলা-৩, চট্টগ্রাম-২, ফেনী-৩, ফেনী-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, লক্ষ্মীপুর-৩, ময়মনসিংহ-১, বগুড়া-৫, কিশোরগঞ্জ-৪, চট্টগ্রাম-১১, বরিশাল-১, মাদারীপুর-৩, ভোলা-২, ময়মনসিংহ-৯, লক্ষ্মীপুর-২, টাঙ্গাইল-১, খুলনা-২, সিরাজগঞ্জ-২, জামালপুর-৪, শরীয়তপুর-২, নারায়ণগঞ্জ-২, ঢাকা-৩, ঝালকাঠি-১, চট্টগ্রাম-১, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-২, ঢাকা-৪, ভোলা-৪, পঞ্চগড়-১, লালমনিরহাট-১, চুয়াডাঙ্গা-১, বরগুনা-২, পটুয়াখালী-৩, ভোলা-১, বরিশাল-৩, টাঙ্গাইল-৮, শেরপুর-৩, নেত্রকোণা-৩, মানিকগঞ্জ-১, মুন্সীগঞ্জ-৩, ঢাকা-৮।

নিরাপত্তা পরিকল্পনা:
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে বিভিন্ন বাহিনী মিলে নিরাপত্তায় প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। সবচেয়ে বেশি মাঠে থাকবে আনসার সদস্যরা, এরপর পুলিশ ও সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, পুলিশ এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ এবং সেনাবাহিনী এক লাখ সদস্য মাঠে নিরাপত্তা দেবে। এছাড়া নৌবাহিনী পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনী তিন হাজার ৭৩০, বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ড তিন হাজার ৫৮৫, র‍্যাব সাত হাজার ৭০০ এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

আরও পড়ুন: বিএনপির দাবিতে বিএনসিসি মোতায়েনে পরিবর্তন আনল ইসি

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্র বলেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকা ভিত্তিক সন্ত্রাসীদের তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রফেশনাল কিলারদেরও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের এআইজি এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন ঢাকা মেইলকে বলেন, যে আসনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা হচ্ছে সেগুলো আমাদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ আসন বলছি। গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে আমাদের ফোর্স বেশি থাকবে এবং কোন আসন বা কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার খবর পেলেই পুলিশ সেখানে ছুটে গিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরও বলেন, ভোটের দিন বিশৃঙ্খলার খবর বা তথ্য ট্রিপল নাইন ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো নম্বরগুলোতে কল করলেই হবে। কল পেলেই পুলিশ সেই কেন্দ্রের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এমআইকে/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর