আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশ ও বিজিবির পাশাপাশি মাঠে থাকবে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীও। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগরের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বৈচিত্র ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী, যেসব এলাকায় যত জনবল প্রয়োজন, সেভাবেই সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং আনসারসহ সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সাধারণ ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব। নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটি অনেক পুরনো একটি শব্দ। কেউ বলবে ফিল্ড লেভেল, কেউ বলবে লেভেল নয়। তবে সরকার নির্বাচনকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে প্রস্তুতি রয়েছে তা সন্তোষজনক। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু, উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ হবে।
নির্বাচনের সময় ইন্টারনেটের ব্যবহার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হলো এটা খোলা থাকবে। ইন্টারনেট যদি কেউ বন্ধ করে, আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলো নিরাপদ থাকবে এবং ভোটারদের কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব প্রতিরোধে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারেন সাংবাদিকরা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন 'ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬' সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যেকোনো মূল্যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসার, জেলা নির্বাচন অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এবং আনসার-ভিডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/ক.ম




