দেশ থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পাচারের ঘটনায় অভিযুক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার পি কে হালদার জানিয়েছেন, তিনি চার্জশিট হাতে পেয়েছেন। দেখে-শুনে শিগগির এ ব্যাপারে মুখ খুলবেন তিনি।
শুক্রবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) তিন নম্বর আদালতে বিচারপতি জীবনকুমার সাধুর এজলাসে তোলা হয় পি কে হালদার ও তার সহযোগীদের। আদালত ২৬ দিনের বিচার বিভাগীয় জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পি কে হালদারের মেডিকেল পরীক্ষা করিয়ে পরবর্তী শুনানির দিনে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১০ আগস্ট তাদের ফের কলকাতার আদালতে তোলা হবে।
আদালতের এজলাস থেকে কোর্ট লকআপে যাওয়ার সময় সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পি কে হালদার বলেন, ‘এতদিন চার্জশিটের অপেক্ষায় ছিলাম, আজ হাতে পেলাম, দেখেশুনে এবার মুখ খুলব, তার আগে নয়।’
এর আগে গত মঙ্গলবার (১২ জুলাই) আদালতে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গ্রেফতারের প্রায় ৬০ দিনের মাথায় এই অভিযোগপত্র দেওয়া হলো।
গত ১৩ মে দিনভর ইডির কর্মকর্তারা পি কে হালদারসহ তার সহযোগীদের বিভিন্ন অফিসে হানা দেন এবং বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করেন। বর্ধমানের কাটোয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পি কে হালদার, উত্তম মিত্র, প্রিতিশ হালদার ও প্রিতিশ হালদারের স্ত্রী ও জামাতা সঞ্জীব হালদারকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদের সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়।
গ্রেফতারের দিন মেডিকেল চেকআপের পর অনলাইনে ব্যাঙ্কশাল সিবিআইয়ের স্পেশাল কোর্টে কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে আদালতের কাছে পি কে হালদারসহ পাঁচজনকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করে ইডি। ওই আবেদনের পর আদালত পাঁচজনকে ইডির হেফাজতে দেয় ও এক নারীকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতারের পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অর্থপাচারসহ সব কেলেঙ্কারির অভিযোগ অস্বীকার করেন ভারতে গ্রেফতার প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার। সেই সঙ্গে যেকোনো মূল্যে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে চান বলেও জানিয়েছেন।
পি কে হালদারের জন্ম পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান গ্রামে। বাবা প্রয়াত প্রণনেন্দু হালদার ও মা লীলাবতী হালদার। তার মা ছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পি কে হালদার ও প্রিতিশ কুমার হালদার—দুই ভাই–ই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে ব্যবসায় প্রশাসন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।
২০০৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসিতে উপব্যবস্থাপনা (ডিএমডি) পরিচালক ছিলেন পি কে হালদার। ১০ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিয়েই ২০০৯ সালে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি হয়ে যান। এরপর ২০১৫ সালের জুলাইয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুই ভাই মিলে ভারতে হাল ট্রিপ টেকনোলজি নামে কোম্পানি খোলেন ২০১৮ সালে, যার অন্যতম পরিচালক প্রিতিশ কুমার হালদার। কলকাতার মহাজাতি সদনে তাদের কার্যালয়।
আর কানাডায় পিঅ্যান্ডএল হাল হোল্ডিং ইনক নামে কোম্পানি খোলা হয় ২০১৪ সালে, যার পরিচালক পি কে হালদার, প্রিতিশ কুমার হালদার ও তার স্ত্রী সুস্মিতা সাহা।
কানাডা সরকারের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কানাডার টরন্টোর ডিনক্রেস্ট সড়কের ১৬ নম্বর বাসাটি তাদের।
জানা গেছে, অঙ্গন হালদার নামে নিজ গ্রামে জনৈক ব্যক্তি ম্যানেজার হিসেবে পি কে হালদারের ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করেন। বর্তমানে পি কে হালদারের গ্রামের বাড়িতে পুরোনো একটি কাঠের টিনশেড ঘর আছে, যেখানে অন্য লোকজন বসবাস করে।
এদিকে দুদকের চোখে বিপুল পরিমাণ টাকার পাচারকারী হলেও ‘ওয়ান ইলেভেন’ থেকে নিজ গ্রাম নাজিরপুর, পিরোজপুর ও খুলনায় দানশীল, শিক্ষানুরাগী, নামে পি কে হালদারের খ্যাতি ছড়াতে থাকে বলে জানা গেছে।
জেবি




