ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা তাদের সমর্থকদের নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন ও প্রচার-প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সব রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের জারি করা এ সংক্রান্ত পরিপত্র থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
গোপন ভোট নিশ্চিতে বাড়বে মার্কিং প্লেস: পরিপত্রে বলা হয়, ভোটারদের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নির্ধারিত কক্ষ অনুযায়ী গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেস স্থাপন করতে হবে। কক্ষ এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে, যাতে ভোটদানের সময় ভোটারের পছন্দ সম্পূর্ণ গোপন থাকে এবং কোনো ব্যক্তি তা দেখতে না পারে। জানালা বা উন্মুক্ত স্থান থাকলে তা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রত্যেক ভোটারকে দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। এ কারণে প্রতিটি ভোটকক্ষের সঙ্গে যতদূর সম্ভব দুটি গোপন কক্ষ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। যেখানে তা সম্ভব হবে না, সেখানে অতিরিক্ত ভোটকক্ষ স্থাপন করতে হবে।
আলো, ব্যালট বাক্স ও সিল ব্যবহারে নির্দেশনা: ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনার স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দিয়ে ইসি জানায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্ভাবনা বিবেচনায় বিকল্প আলোর ব্যবস্থাও রাখতে হবে। ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ছাড়া অন্য কোনো বাক্স ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একটি এবং অতিরিক্ত হিসেবে একটি ব্যালট বাক্স থাকবে।
ভোটগ্রহণ চলাকালে কোনো ব্যালট বাক্স পূর্ণ হয়ে গেলে সেটি পঞ্চম লক দিয়ে সিল করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে নতুন ব্যালট বাক্স স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রচারণা ও যানবাহন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থক নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবে না। একইসঙ্গে পোস্টার, লিফলেট বা যেকোনো ধরনের প্রচারপত্র ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই সরিয়ে ফেলতে হবে। ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কোনো যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
ভোটার তালিকা ও ব্যালট পেপারে সতর্কতা: প্রিজাইডিং অফিসারকে ভোটার তালিকা যাচাই করে গ্রহণ করতে হবে এবং ভোটকক্ষে বিভাজিত তালিকা সঠিক কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। ব্যালট পেপার দেওয়ার সময় পেছনের অংশে অফিসিয়াল সিল ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক।
সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোট শুরু: ইসি জানায়, ভোটগ্রহণ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই বিলম্ব করা যাবে না। শেষ সময়ে ভোটারদের চাপ বাড়তে পারে বিবেচনায় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, উল্লিখিত নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
উল্লেখ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ হাজারের কাছাকাছি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭ টা পর্যন্ত প্রচারণা চালতে পারবেন এসব প্রার্থীরা আর ভোটগ্রহণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
এমএইচএইচ/ক.ম

