আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলন করে শহীদ হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদির সন্তান ও ভাইকে খুন করা হতে পারে। এমন আশঙ্কা করে তাদের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ৮টায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় এ বিষয়ে জিডি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শহিদ ওসমান হাদির মেঝ ভাই ওমর বিন হাদি নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জিডির আবেদনে ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি বলেছেন, ‘শহিদ ওসমান হাদি খুন হওয়ার পর থেকে আমি ও হাদির সন্তানকে খুন করা হতে পারে এমন আশঙ্কা করছি। কারণ, যেহেতু হাদির খুনি চক্র গ্রেফতার হয়নি, সেহেতু হাদির খুনি চক্র যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে, যার কারণে আমি ও হাদির সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
জিডিতে আরও বলা হয়, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি থেকে আমাদের পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং আমাকে হত্যা করতে নানা রকম হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমি ও শহীদ হাদির সন্তান নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি।
ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানা যায়, গুলি তার মাথার ডান দিক থেকে ঢুকে বাম পাশ দিয়ে বের হয়ে গেছে। একপর্যায়ে পরিবারের ইচ্ছায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া হলে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যু হয়।
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে মরদেহ দেশে আনা হলে গত ২০ ডিসেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের এই যোদ্ধার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন দুপুর আড়াটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো জনতার অংশ নেয়। ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের এই যোদ্ধাকে।
ক.ম/

