বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

যে কারণে এবারের ভোট গণনায় বেশি সময় লাগবে, জানালেন ইসি সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৮ এএম

শেয়ার করুন:

যে কারণে এবারের ভোট গণনায় বেশি সময় লাগবে, জানালেন ইসি সচিব
কথা বলছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে। পাশাপাশি সারা দেশে প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি। এ কারণে ভোটগ্রহণ ও গণনা—উভয় ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক ও বিএনসিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।


বিজ্ঞাপন


ইসি সচিব বলেন, এবার প্রবাসী ভোটার এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ভোটারদের জন্য ভিন্ন ধরনের ব্যালট ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ব্যালট ও অধিক প্রার্থীর কারণে ভোট গণনায় সময় লাগবে। বিশেষ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট গণনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজার ৩৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ২৭৪ জন এবং কুমিল্লার একটি আসনে ১৩ হাজার ৯৩৯ জন পোস্টাল ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। একটি কেন্দ্রে যেখানে সাধারণত তিন হাজার ভোটার থাকেন, সেখানে পোস্টাল ব্যালটের চাপ পাঁচ থেকে ছয় গুণ বেশি। এতে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সাড়ার বিষয়ে আখতার আহমেদ জানান, ইসি ৮৩টি সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। এর মধ্যে ৩৬টি সংস্থা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ সংখ্যা বাড়িয়ে ২৭৫ থেকে ৩০০ জনে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া কমনওয়েলথ থেকে ১০ জন এবং তুরস্ক থেকে ৯ জন প্রতিনিধি আসার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫শ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্বাচনের পর্যবেক্ষণে থাকবেন। তাঁদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধাও রাখা হয়েছে।

নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব রোধে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, পুরোপুরি শাটডাউন বা বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে লেনদেনের ক্ষেত্রে একটি সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে। আই-ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হতে পারে।


বিজ্ঞাপন


ইসি সচিবের তথ্যমতে, গতকাল রাত পর্যন্ত প্রার্থী সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮১ জনে। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন এবং নারী প্রার্থী ৭৬ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ২৮৮ জন প্রার্থী দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী রয়েছেন ঢাকা-১২ আসনে এবং সর্বনিম্ন ২ জন প্রার্থী পিরোজপুর-১ আসনে।

ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র অন্যের কাছে হস্তান্তর না করার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, মিরপুরে এনআইডি কার্ড নেওয়ার যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ বিষয়ে ভোটারদের সচেতন থাকতে হবে।

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের উদ্বেগ প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। তবে কেউ তথ্য গোপন করে প্রার্থী হলে এবং পরে তা প্রমাণিত হলে আরপিওর নতুন ধারার আওতায় কমিশন যেকোনো সময় ব্যবস্থা নিতে পারবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য এবারের নির্বাচনে ১৬ হাজারের বেশি বিএনসিসি স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।  

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর