বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

৪০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি বাক্স, চার লকে সিল

মো. মেহেদী হাসান হাসিব
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

৪০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি বাক্স, চার লকে সিল

পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ৪০০টি পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি করে ব্যালট বাক্স ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতিটি ব্যালট বাক্স প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনি এজেন্টদের উপস্থিতিতে চারটি লক দিয়ে সিল করার বিধান রাখা হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই ডাকযোগে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট এসব নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে সংরক্ষণ করা হবে এবং গণনার দিন লক ও বাক্সের নম্বর প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনি এজেন্টদের সামনে মিলিয়ে খোলার সুযোগ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 


বিজ্ঞাপন


এ সংক্রান্ত এক বিশেষ পরিপত্রে মনির হোসেন বলেন, পোস্টাল ভোটিং সফটওয়্যারে লগইন করে রিটার্নিং অফিসার সংশ্লিষ্ট আসনের নিবন্ধিত পোস্টাল ভোটার ও প্রদত্ত ভোটের সামগ্রিক তথ্য দেখতে পারবেন। নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ৪০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি ব্যালট বাক্স ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি ব্যালট বাক্সে আসনের নম্বর ও নাম উল্লেখ করে স্টিকার লাগাতে হবে।

ব্যালট বাক্স সিল ও লক করার নিয়ম

প্রতীক বরাদ্দের পর অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছাতে শুরু করবে। সে অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের দিন বা পরদিন থেকেই ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রাখতে হবে।

ব্যালট বাক্সে লক দেওয়ার সময় প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনি এজেন্টদের উপস্থিতিতে চারটি সিল/লক ব্যবহার করতে হবে। সিল দেওয়ার আগে বাক্স ও লকের নম্বর উচ্চস্বরে পাঠ করতে হবে এবং তা লিপিবদ্ধ করতে দিতে হবে।


বিজ্ঞাপন


কোনো ব্যালট বাক্স পূর্ণ হলে পঞ্চম লক দিয়ে বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে। গণনার দিন বাক্স খোলার আগে নম্বর মিলিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রতিটি বাক্স ও ব্যবহৃত লকের নম্বর উল্লেখ করে নোটিশ আকারে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে টানাতে হবে।

ডাকযোগে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ ও স্ক্যানিং

ডাক বিভাগ থেকে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট গ্রহণের জন্য একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেবেন রিটার্নিং অফিসার। খামের ওপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে সফটওয়্যারে এন্ট্রি করতে হবে।

কোনো ক্ষেত্রে ফেরত খাম অন্য খামের ভেতরে থাকলে বাহ্যিক খাম খুলে কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। স্ক্যান শেষে খাম সংশ্লিষ্ট আসনের নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে রাখতে হবে। কিউআর কোড ডুপ্লিকেট হিসেবে শনাক্ত হলে ব্যালট বাতিল হবে এবং খাম না খুলেই আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হবে।

ভোটার কিউআর কোড স্ক্যান না করলে ব্যালট বাতিল

ভোটারদের জন্য নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যালট খাম পাওয়ার পর পোস্টাল বোট বিডি অ্যাপে লগইন করে কিউআর কোড স্ক্যান করা বাধ্যতামূলক। কিউআর কোড স্ক্যান ছাড়া ভোট দিয়ে খাম ফেরত পাঠালে তা সিস্টেমে শনাক্ত হবে না এবং ব্যালট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।

ভুল এলাকায় পৌঁছানো পোস্টাল ব্যালট

ভুলক্রমে কোনো আসনের পোস্টাল ব্যালট অন্য জেলায় পৌঁছালে তা দ্রুত ডাক বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে। স্ক্যানের পর ব্যালট যেন সঠিক আসনের বাক্সেই রাখা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পোস্টাল ব্যালট গণনায় কর্মকর্তা নিয়োগ

প্রতি আসনের জন্য একজন প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করা হবে। প্রতি ১০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একজন পোলিং অফিসার এবং প্রতি ১৫ জন পোলিং অফিসারের জন্য একজন সহায়ক কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।

পোস্টাল ব্যালট গণনার প্রক্রিয়া

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রিজাইডিং অফিসাররা ব্যালট বাক্স গ্রহণ করবেন। বাক্স খোলার পর ফেরত খাম খুলে ঘোষণাপত্র (ফরম-৮) ও ব্যালট খাম (১০ক) যাচাই করা হবে।

যথাযথ স্বাক্ষরযুক্ত ঘোষণাপত্র থাকলে ব্যালট গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে। ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর না থাকলে বা ঘোষণাপত্র না থাকলে ব্যালট বাতিল করা হবে এবং নির্ধারিত সিল ব্যবহার করে চিহ্নিত করা হবে।

কোন ব্যালট অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে

ঘোষণাপত্র না থাকলে, স্বাক্ষর না থাকলে, একাধিক প্রতীকে চিহ্ন দিলে, কোনো প্রতীকে চিহ্ন না দিলে, অস্পষ্ট চিহ্ন দিলে বা টিক/ক্রস ছাড়া অন্য চিহ্ন দিলে ব্যালট অবৈধ হবে।

ফলাফল প্রস্তুত ও ঘোষণা

পোস্টাল ব্যালট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার জাতীয় সংসদের ফলাফল ফরম-১৬ক এবং গণভোটের ফলাফল ফরম-৪ এ লিপিবদ্ধ করবেন। পরে সাধারণ কেন্দ্রের ফলাফলের সঙ্গে একত্র করে রিটার্নিং অফিসার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, পোস্টাল ব্যালট এমন একটা উদ্যোগ যেটা এর আগে কেউ চেষ্টা করেনি। কেউ এই ঝুঁকি নেয়নি। আমরা নিয়েছি। আমরা অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে এই রিস্কটা নিয়েছি। বহু ঝামেলা আসবে, বহু চ্যালেঞ্জ আসবে—তারপরও শপথ নিয়েছি, আমরা বাস্তবায়ন করবই। আমরা সবাই মিলে কাজ করলে বাংলাদেশের এই পোস্টাল ব্যালট প্রকল্প সফল করতে পারলে এটার জন্য হয়তো দেখবেন, সারা দুনিয়াতে বাংলাদেশের নামটা উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অব আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০টি ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছেছে এবং এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩ জন ভোটার ব্যালট হাতে পেয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করেছেন। তবে ভুল ঠিকানার কারণে ৫ হাজার ৬০০টি ব্যালট ফেরত এসেছে, যার বেশিরভাগই মালয়েশিয়া থেকে।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ইলেকটোরাল ইন্টেগ্রিটি রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, জাতীয় পরিচয়পত্র ব্লক এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। লাইভ ভেরিফিকেশন ছাড়া কোনো ভোট গ্রহণ করা হবে না।

উল্লেখ্য, আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পোস্টাল ব্যালট পোস্ট করা না হলে নির্ধারিত সময়ে রিটার্নিং অফিসারের নিকট ব্যালট নাও পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এজন্য প্রবাসী ভোটারদের আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান কার্যক্রম সম্পন্ন করে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে পাঠাতে হবে।

দেশের ভেতরের তিন শ্রেণির নাগরিক-সরকারি চাকরিজীবী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কয়েদীরা এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া ১২০টির বেশি দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরাও এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। সবমিলিয়ে নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটারের ভোটগ্রহণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন করবে নির্বাচন কমিশন। 

/এএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর