শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বুধবার (২১ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাইয়ে আয়োজিত জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

সভায় স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, ডাক ও তথ্যপ্রযুক্তি, মন্ত্রিপরিষদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাহিনী প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার-ভিডিপি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা বৈঠকে অংশ নেন।


বিজ্ঞাপন


প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সমর্থন দেওয়া আমাদের মূল দায়িত্ব। নির্বাচনকে ইতিহাসে একটি আদর্শ নির্বাচন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সকল পর্যায়ে সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের দিন কোনো ঘাটতি দেখা দিতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ মনোযোগ রাখতে হবে।

তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে বডি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম থেকে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা হবে। দায়িত্ব পালনে বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানালেন, ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি দল এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। ২৬টি দেশের পর্যবেক্ষক আমন্ত্রণ পেয়েছেন, ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫৬ জন প্রতিনিধি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর ৭:৩০ পর্যন্ত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বাহিনী ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, বডি ক্যামেরা, ড্রোন ব্যবহার এবং মনিটরিং কার্যক্রমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান জানান, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুটকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নির্বাচনের সময় জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে বাহিনী পদক্ষেপ নিচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র আনসার সদস্য অবস্থান করবেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বাহিনী এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজন হলে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবে।

স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গণি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে বডি ক্যামেরা পৌঁছে যাবে। ভোটের চার দিন আগে সকল বাহিনী মোতায়েন থাকবে এবং ভোট শেষে আরও সাত দিন মাঠে থাকবে। বৈঠকে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের ভিডিওচিত্রও উপস্থাপন করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বডি ক্যামেরার যথাযথ ব্যবহার বিশাল সাফল্য নিশ্চিত করতে পারে। এছাড়া প্রতি সপ্তাহে অথবা প্রয়োজন হলে আরও কম দিনের ব্যবধানে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর