মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

হাদি হত্যার বিচার নিয়ে তোপের মুখে আসিফ নজরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

asif
চট্টগ্রামে গণভোট নিয়ে ভোটারদের সচেতনতা শীর্ষক সভায় আসিফ নজরুল। ছবি- সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার বিচার নিয়ে তার সমর্থকদের তোপের মুখে পড়লেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বিচার বিলম্বের অভিযোগে তার কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) গাইবান্ধায় এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে এ ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি, অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত ও গণভোট নিয়ে ভোটারদের সচেতনতা শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


এসময় চিৎকার-চেঁচামেচির একপর্যায়ে আসিফ নজরুল ডায়াসে থাকা মাইক্রোফোনের সামনে থেকে সরে যেতে যেতে বলেন, ‘এভাবে তো কথা বলা যাবে না।’ তিনি উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে চেয়ে মঞ্চের সামনে পোস্টার হাতে নিয়ে থাকা দুজনকে পরে তার সঙ্গে কথা বলতে আসার আহ্বান জানান।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের অনেক ব্যাপারে প্রশ্ন থাকবে যে, চার্জশিট এমন কেন হলো, বিচার হচ্ছে না কেন? আসিফ নজরুল স্যারকে আমরা এতো ভালোবাসতাম, উনি কী করছেন? আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য, আপনাদের এখানে দুইটা ভাই পোস্টার নিয়ে এতেক্ষণ কষ্ট করে দাঁড়ায়ে আছে। আপনারা দুজনে আমার সঙ্গে আসবেন, আমি আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেব।’

আসিফ নজরুল হাদির সমর্থকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি চান যে চার্জশিট গ্রহণ করে ফেলুক, চান? চান কি না চান?' এরপরও হাদির বিচারের অগ্রগতি জানতে চেয়ে উপস্থিত জনতা চিৎকার করতে থাকেন।

তখন কেন চার্জশিট দিতে দেরি হচ্ছে, চার্জশিট কোন পর্যায়ে রয়েছে- আইন উপদেষ্টা হাদির সমর্থকদের সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, ‘ভালো করে বলি শুনেন, একটা বিচার কাজ শুরু হয় চার্জশিট দেওয়ার পর। এই চার্জশিট করার দায়িত্ব পুলিশের, আপনাদের তো বললাম যেদিন চার্জশিট গৃহীত হয়ে যাবে, এরপর বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ করা হবে না। প্রতিদিন কোর্ট বসবে।’

আসিফ নজরুল আরও বলেন, ‘পুলিশের ব্যাপার দেখার দায়িত্ব যেই মন্ত্রণালয়ের, আপনাদের যে কনসার্ন আছে, আমি কথা দিচ্ছি আপনারা যেভাবে বলেছেন আপনাদের কনসার্নটা আমি ওনাদেরকে পৌঁছে দেব।’

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে হাদিকে খুব কাছ থেকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে একটি অপারেশনের পর নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। 

তিন দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঠানো হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে মারা যান এই জুলাই বিপ্লবী।

এরপর ১৯ জুলাই দেশে আনা হয় হাদির মরদেহ। রাখা হয় হাসপাতালের হিমঘরে। পরদিন (২০ ডিসেম্বর) মিলিয়ন মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিনই হাদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়। 

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছেন র‍্যাব-পুলিশের সদস্যরা। তবে প্রধান আসামি অর্থাৎ শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর পলাতক রয়েছে।

এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর