মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

অটোরিকশা চালক হত্যা: ৩৮ টুকরা কঙ্কালের রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ৩

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম

শেয়ার করুন:

অটোরিকশা চালক হত্যা: ৩৮ টুকরা কঙ্কালের রহস্য উন্মোচন, গ্রেফতার ৩
অটোরিকশা চালক কিশোর মিলন হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৩ আসামি। ইনসেটে নিহত মিলন। ছবি: ঢাকা মেইল

সাভারের আশুলিয়ায় উদ্ধার হওয়া ৩৮ টুকরা কঙ্কালের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহতের লুণ্ঠিত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার রাতে সাভারের আক্রান বাজার এলাকা থেকে মো. রনি মিয়া (২৪) নামে একজনকে গ্রেফতার করে পিবিআই। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে আরও দুইজন—মো. এরশাদ আলী (৩৪) ও মো. আবুল কালাম (৫২)—কে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে নিহত মিলনের লুণ্ঠিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


পিবিআই সূত্র জানায়, গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাভারের আশুলিয়া মডেল টাউন (আমিন মোহাম্মদ হাউজিং) এলাকার একটি কাশবন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মাথার খুলিসহ ৩৮ টুকরা মানব কঙ্কাল ও পরিধেয় কাপড় উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের পরিবারের সদস্যরা কাপড় দেখে কঙ্কালটি নিখোঁজ কিশোর মিলন হোসেনের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিত হয়।

জানা যায়, নিহত মিলন হোসেন (১৫) পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটার দিকে তিনি অটোরিকশা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেননি। পরদিন তাঁর মা মোসা. জোসনা বেগম আশুলিয়া থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ১৮ নভেম্বর তিনি একই থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

picture
উদ্ধারকৃত কঙ্কাল। ছবি: সংগৃহীত


বিজ্ঞাপন


মামলাটি তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বাদীর আবেদনের পর গত ১ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।

যেভাবে হত্যা করা হয় কিশোর অটোচালককে:

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছেন, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার দিন রাত সাতটার দিকে সুমন (পলাতক) অটোরিকশা ভাড়া করে মিলনকে আক্রান বাজারে নিয়ে যান। পরে সেখানে রনি মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে আশুলিয়ার আমিন হাউজিং এলাকার একটি কাশবনে যাওয়া হয়।

একপর্যায়ে তিনজন গাঁজা সেবনের পর রনি মিয়া ও সুমন মিলনের গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ কাশবনে ফেলে রেখে তাঁরা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে অটোরিকশাটি বিভিন্ন হাত ঘুরে বিক্রি করা হয় এবং শনাক্তকরণ এড়াতে এর রং পরিবর্তন করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তাঁরা দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এমআইকে/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর