মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

পৌনে ২ কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য, ফাঁসছেন রাঙ্গা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

Ranga
জাপার সাবেক মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা। ফাইল ছবি

জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গার বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফলে ফেঁসে যেতে চলেছেন তিনি।

জানা গেছে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এমপি পদে দলীয় মনোনয়ন পাইয়ে দিতে প্রায় ২ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অপরাধে জড়িত ছিলেন রাঙ্গা। এ সংক্রান্ত প্রমাণ পেয়ে রাঙ্গা এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক এমপি পনির উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।


বিজ্ঞাপন


সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান দুদকের মহাপরিচালক আকতার হোসেন।

তিনি জানান, ২০২৪ সালে হওয়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক এমপি পনির উদ্দিনকে মনোনয়ন পাইয়ে দিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য করেন রাঙ্গা। তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। 

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মহাসচিব মো. মশিউর রহমান রাঙ্গা ব্যবসায়িক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও আসামি কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক এমপি পনির উদ্দিন আহমেদকে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সুযোগ তৈরি করে দিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

অনুসন্ধানকালে আরও দেখা যায়, আসামি পনির উদ্দিন আহমেদ মেসার্স জলিল বিড়ি ফ্যাক্টরি এবং হক স্পেশাল (পরিবহন ব্যবসা) নামীয় প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম শাখায় পরিচালিত আসামি পনির উদ্দিন আহমেদের মালিকানাধীন হক স্পেশাল নামীয় হিসাব থেকে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর ওই ব্যাংকের রংপুর শাখায় পরিচালিত আসামি মো. মশিউর রহমান রাঙ্গার হিসাবে ২০ লাখ টাকা ট্রান্সফার করা হয়। 


বিজ্ঞাপন


সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের কুড়িগ্রাম শাখা থেকে পনির উদ্দিন আহমেদ রাঙ্গার সোনালী ব্যাংকের সংসদ ভবন শাখায় ২০১৮ সালের নভেম্বরে চার দফায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা জমা করেন। 

এভাবে মোট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ওই টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর, রূপান্তর, লেনদেনের মাধ্যমে আড়াল করার চেষ্টা করেছে। যা দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ফলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

অন্যদিকে মো. মশিউর রহমান রাঙ্গার বিরুদ্ধে সন্দেহভাজন সম্পদের তথ্য পাওয়ায় তা যাচাই-বাছাই করতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় তার নামে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে।

এদিকে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য হচ্ছে কি না, তাও দুদক ক্ষতিয়ে দেখবে বলে জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক আকতার হোসেন। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কমিটি এ বিষয়ে কাজ করছে।

এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর