রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

গুলশানে তালাবদ্ধ ঘর থেকে পার্লারকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

গুলশানে তালাবদ্ধ ঘর থেকে পার্লারকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
নিহত পার্লারকর্মী সাদিয়া রহমান মিম। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানের একটি ভাড়া বাসা থেকে এক নারী পার্লারকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের রুমমেট নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে গুলশানের কালাচাঁদপুর পাকা মসজিদ পশ্চিম পাড়ার ক-৮৯ নম্বর বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।


বিজ্ঞাপন


নিহত পার্লারকর্মীর নাম সাদিয়া রহমান মিম (২৭)। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কালাচাঁদপুর এলাকায় পার্লারের ব্যবসা করতেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার মৃত শহীদ আলীর সন্তান।

নিহতের বড় বোন চাহিদা আক্তার বলেন, গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরের পর থেকে আমি আমার বোনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। পরে তার রুমমেটদের ফোন দিলে তারা গ্রামে আছেন বলে জানায়। বোনকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে পরদিন আমি গ্রাম থেকে ঢাকায় রওনা দিই। রাত আনুমানিক ৯টার সময় ঢাকায় এসে বোনের বর্তমান ভাড়া বাসায় পৌঁছাই। সেখানে গিয়ে দেখি বাসাটি তালাবদ্ধ। তখন বাড়িওয়ালা ও আশপাশের লোকজনকে ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করি। ভেতরে গিয়ে দেখি আমার বোনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। তার গলার অর্ধেক অংশ কাটা ছিল এবং মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের ক্ষত ছিল। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল। তখনই আমি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করি। পরে গুলশান থানা পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে এসে সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, আমার বোন পার্লারের ব্যবসা করত এবং নিজ পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। যারা আমার বোনকে হত্যা করেছে, আমি তাদের বিচার চাই।

নিহতের বোনজামাই নূর নবী জানান, খবর পেয়ে আজ (রোববার) দুপুরে খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকায় এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পৌঁছাই। পরে জানতে পারি, আমার শালিকে কে বা কারা গলা কেটে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় আমার স্ত্রী শাহিদা বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরও জানান, আমার শালীর এর আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম পক্ষের ঘরে তার মারিয়া নামে পাঁচ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে কে বা কারা তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনো কিছুই জানা যায়নি। মরদেহ দাফনের জন্য আমরা গ্রামে নিয়ে যাচ্ছি।


বিজ্ঞাপন


বিষয়টি নিশ্চিত করে গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মারুফ আহমেদ জানান, গত রাতে খবর পেয়ে আমরা এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আজ (রোববার) দুপুরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গলাকাটা অবস্থার পাশাপাশি মুখ, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি আগে বারের ড্যান্সার ছিলেন এবং তার একটি পার্লারও ছিল। তার আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ জানা যায়নি। নিহত মিমের বড় বোন শাহিদা বাদী হয়ে গুলশান থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা (মামলা নং-৩৭) দায়ের করেছেন। হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। এ ঘটনায় তার রুমমেট নুসরাতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রাখা হয়েছে।

একেএস/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর