বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও নগর পরিকল্পনার কাঠামো এখনো আমলানির্ভর থাকায় পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। পরিকল্পনার মতো কারিগরি ও দীর্ঘমেয়াদি বিষয়ে প্রশাসনিক অদূরদর্শিতা, দক্ষতার অভাব ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) গুলশানের সিক্স সিজনস হোটেলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর উদ্যোগে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে ‘রাজনৈতিক চর্চায় পরিকল্পিত নগরায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে পুরো দেশের জন্য একটি শক্তিশালী স্থানিক পরিকল্পনা আইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। সেই সঙ্গে জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও বাংলাদেশে এখনো জাতীয় পর্যায়ে কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা নেই। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন শহরের পরিকল্পনা করা হলেও সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলের আদলে ১৯৯২ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবায়ন না হওয়ায় সেসব পরিকল্পনা থেকে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও দপ্তরের আওতায় আরও অনেক শহরের পরিকল্পনা করা হলেও বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশে এখনো একটি পরিকল্পিত শহরও গড়ে ওঠেনি।
বিআইপি সভাপতি বলেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে পরিকল্পনাবিদরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চান।
একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার পরিকল্পনাবিদদের গঠনমূলক সমালোচনা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবে এবং নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরিকল্পনাবিদদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও কর্মসূচিতে পরিকল্পনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে—এটি একটি ইতিবাচক দিক। তবে এসব পরিকল্পনা যদি জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংযুক্ত না হয়, তাহলে দেশের সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না। অতীতে বিভিন্ন সরকার বিকেন্দ্রীকরণের প্রতিশ্রুতি দিলেও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হয়নি। আগামী দিনে কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করেন তিনি।
>> আরও পড়তে পারেন
‘যথেষ্ট সংস্কার হয়েছে, তবে পুলিশ সংস্কার যেভাবে চেয়েছি সেভাবে হয়নি’
ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, দেশের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সামগ্রিক কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমানে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিকল্পনা দপ্তরগুলোতে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করেন। তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে হয়, পরিকল্পনার মতো কারিগরি বিষয়ে যথাযথ দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির অভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। তাই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পরিকল্পনা দপ্তরগুলোতে পরিকল্পনাবিদদের অগ্রণী ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, যেহেতু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকেই দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন পায়, তাই এসব প্রকল্প যেন জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ গঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
এএইচ/এএস

