মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ঢাকা

নিকাব নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য: বিএনপি নেতা ঠাকুরকে গ্রেফতার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

নিকাব নিয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য: বিএনপি নেতা ঠাকুরকে গ্রেফতার দাবি

বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর মুসলিম নারীদের ধর্মীয় বিধান নিকাব সম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সম্মিলিত নারী প্রয়াস। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি হয়। 

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংগঠনের নারী নেত্রীরা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরকে গ্রেফতারের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত সহস্রাধিক নারী অধিকার কর্মী মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান ও প্লেকার্ড প্রদর্শন করেন।


বিজ্ঞাপন


সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভানেত্রী ড. শামীমা তাসনীম বলেন, মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতা এবং একইসঙ্গে তিনি একজন সাংস্কৃতিক কর্মী। কিন্তু তিনি নিকাব পরিহিত নারী সমাজকে নিয়ে যেই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন সেই মন্তব্য সরাসরি নারীর স্বাধীনতা ও অধিকারের উপর আঘাত করার শামিল। নিকাবকে ইহুদী বেশ্যা নারীর পোশাক দাবি করে তিনি মুসলিম নারী সমাজকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেছে। তাঁর এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের পর যখন তাঁর দল বিএনপি চুপ, তখন নারী সমাজ মনে করে বিএনপি তাঁর বক্তব্যকে সমথর্ন করে। 

শামীমা তাসনীম বলেন, হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত যেভাবে আন্দোলন চলছে একইভাবে নারী সমাজের পোশাক নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদানকারীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত নারী সমাজের আন্দোলন চলবে।

নারী অধিকার আন্দোলনের সেক্রেটারি নাজমুন নাহার বলেন, মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর নিকাব নিষিদ্ধ কাজে নিয়োজিত ভিন্ন ধর্মের নারীদের পোশাক দাবি করে মুসলিম নারীদের অপমানিত এবং লাঞ্ছিত করেছে। তার এই বক্তব্য মুসলিম নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও অধিকারে আঘাত এনেছে। তিনি যেভাবে প্রকাশ্যে মুসলিম নারীদের পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন একইভাবে তিনি প্রকাশ্যে নারী সমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তাঁর কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য সমাজে উসকানি সৃষ্টি করে নৈরাজ্য হতে পারে।

সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ড. ফেরদৌস আরা খানম বলেন, ইসলামে নারীর অধিকার ও মর্যাদা স্পষ্ট করে দিয়েছে। কিন্তু মুসলিম দাবি করা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর নারীদের পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে নারী সমাজকে অপমানিত করেছেন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এনেছেন। তাঁর এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য নারী সমাজ ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছে। 


বিজ্ঞাপন


নিকাব পরিহিত একজন নারীকে বেশ্যার সঙ্গে তুলনা করে নারী সমাজকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করার দায়ে অনতিবিলম্বে মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরকে আইনের আওতায় আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ফেরদৌস আরা। 

কর্মসূচিতে আরও  বক্তব্য দেন নারী অধিকার আন্দোলনের সহকারী সম্পাদিকা ডা. তাহেরা বেগম, ড. সাজেদা হুমায়ারা, ফাতেমা ইয়াসমিন মহুয়া প্রমুখ। 

পর্দার সঠিক বিধান এবং ধর্মীয় পোশাকের গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম ও ধর্মীয় নেতাদেরকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা।  

WhatsApp_Image_2026-01-17_at_5.08.22_PM
মুসলিম নারীদের ধর্মীয় বিধান নিকাব সম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার প্রতিবাদে সম্মিলিত নারী প্রয়াসের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

 

নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধনে ‘নারী অধিকার আন্দোলন’-এর পক্ষ থেকে ছয়টি দাবি উত্থাপন করা হয়। 
দাবিগুলো হলো - ‘মোশাররফ হোসেন ঠাকুরের বক্তব্যে সরাসরি ইসলামি বিধানের অবমাননা করা হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার দায়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; 
দেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ পছন্দমতো ধর্মীয় পোশাক (নিকাব বা হিজাব) পরিধান করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এই সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং ধর্মীয় পোশাকে বাধা বা কটূক্তি বন্ধে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া;  
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিকাব বা পর্দা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং কুরুচিপূর্ণ ‘ট্রল’ বন্ধ করা; 
সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় এসব অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা; 
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল এবং জনসমাগমস্থলে নিকাব পরিহিত নারীরা যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য, হেনস্তা বা বুলিংয়ের শিকার না হন, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করা; 
মোশাররফ হোসেন ঠাকুরকে তাঁর কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্য জনসম্মুখে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং অচিরেই তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করা।  
 
ক.ম/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর