মেয়ে গৃহশিক্ষিকার বাসায় পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে তাকে খুঁজতে গিয়ে মাও নিখোঁজ হন। অবশেষে সেই মা ও মেয়ের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুজনকে হত্যার পর হত্যাকারীরা টানা ২১ দিন ঘরে লাশ রেখে খেয়ে পড়ে শুয়ে কাটিয়েছে। এমন ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর অদূরে কেরানীগঞ্জ এলাকায়।
নিহতরা হলেন ৩১ বছর বয়সী রোকেয়া রহমান ও তার মেয়ে ১৪ বছর বয়সী জোবাইদা রহমান ফাতেমা। তারা গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কেরানীগঞ্জের মুক্তিরবাগ এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মিম আক্তার, তার স্বামী হুমায়ূন ও বোনকে (১৫) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মিম ও তার বোনকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই ইলিয়াস হোসাইন জানান, গত ২৫ ডিসেম্বর মেয়ে ফাতেমা ওই বাসায় পড়তে যান। কিন্তু বাসায় আসতে দেরি হওয়ায় সেখানে খুঁজতে যান মা রোকেয়া। কিন্তু তাদের কেউই আর সেই বাসা থেকে ফেরত আসেনি। স্ত্রী ও সন্তানকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ২৭ ডিসেম্বর ফাতেমার বাবা শাহিন আহমেদ একটি জিডি করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গৃহশিক্ষিকা মিমের বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশে খবর দিলে মিমের বাসার খাটের নিচ থেকে রোকেয়া এবং বাথরুমের ছাদ থেকে কিশোরী ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
এসআই ইলিয়াস হোসাইন জানান, মিম আক্তার এবং তার বোন স্বীকার করেছেন যে তারা তাদের পূর্ব শত্রুতার জেরে হত্যা করেছেন। আরও জানিয়েছে, মিম ও তার বোন প্রথমে ফাতেমাকে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে রোকেয়া রহমান ফোন করে বাসায় গেলে একই কায়দাও তাকেও হত্যা করা হয়। হত্যার পর তারা লাশ ঘরে রেখেই স্বাভাবিকভাবে বসবাস করে আসছিল। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ওড়নাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এমআইকে/ক.ম

