শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

সাগরে ভাসমান গুদাম, লাইটার জাহাজের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

সাগরে ভাসমান গুদাম, লাইটার জাহাজের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে সরকার

আমদানিকারকদের একটি অংশ অভ্যন্তরীণ নৌপথে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজগুলো অবৈধভাবে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এতে লাইটার জাহাজের সংকট যেমন দেখা দিচ্ছে, তেমনি প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্য বাজারেও।

তবে আসন্ন রমজান সামনে রেখে লাইটার জাহাজগুলোর অবৈধ তৎপরতা রোধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের উদ্যোগে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


নৌপরিবহন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, রমজান মাসকে সামনে রেখে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার হওয়া লাইটার জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এই বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি এই টাস্কফোর্সের আওতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহন অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে কয়েকজন আমদানিকারক লাইটার জাহাজে পণ্য খালাস না করে দীর্ঘদিন আটকে রাখছেন এবং এসব জাহাজ কার্যত ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অধিদফতর সূত্র আরও জানায়, আসন্ন রমজান মাস সামনে রেখে আমদানিকারকেরা একযোগে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করায় বহির্নোঙরে বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। এরফলে সমুদ্রবন্দর থেকে পণ্য খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় লাইটার জাহাজের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কারণ অনেক লাইটার জাহাজ অবৈধভাবে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন আমদানিকারকদের একাংশ।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে আমদানি করা পণ্য খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। আবার এর প্রভাব পড়ছে স্বাভাবিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিজ্ঞাপন


এ প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জ, যশোর, নোয়াপাড়া এবং দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এলাকায় অনতিবিলম্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নৌপরিবহন অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে। ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজে থাকা পণ্যের আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সূত্র জানায়।

এদিকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ শফিউল বারী (এনডি), ওএসপি স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয়, অবৈধভাবে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার হওয়া লাইটার জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

এই টাস্কফোর্সে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ এবং অভ্যন্তরীণ নৌযান পরিদর্শন দপ্তরের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলেও ওই আদেশে জানানো হয়েছে।

এছাড়া অভিযানের সময় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। আর এই টাস্কফোর্সের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে লাইটার জাহাজের অপব্যবহার বন্ধ হবে। পাশাপাশি পণ্য খালাসে গতি আসবে। সেই সঙ্গে রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এম/এএম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর