আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।
বিজ্ঞাপন
এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে বলেন, সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক অতীত অভিজ্ঞতা সংখ্যালঘুদের জন্য সুখকর ছিল না। প্রতিবারই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মন্দির, ঘরবাড়ি ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবারও শঙ্কা কাজ করছে।
পলাশ কান্তি দে বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকা জরুরি। নির্বাচনে হেরে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায় ভোট দেয়নি—এমন অজুহাতে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আগামী ২৩ জানুয়ারি সরস্বতী পূজার দিন উল্লেখ করে পলাশ কান্তি দে আরও বলেন, ওইদিন বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরস্বতী পূজার দিনে যেন কোনো পরীক্ষা না রাখা হয়, সে দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং মন্দির, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রতিমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, সে বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো সাত দফা দাবি হলো—
বিজ্ঞাপন
১. নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে ১০দিন পর পর্যন্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাসা বাড়ি মঠ-মন্দিরে নিরাপত্তা জোরদার করা।
২. নির্বাচনে সেনা মোতায়েন।
৩. নির্বাচনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনি প্রচার বা সভা সমাবেশ না করা।
৪. নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার না করা
৫. যে সব আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হতে পারে সেই আসনে ভোট স্থগিত করা এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া।
৬. নির্বাচনের আগে প্রধান নির্বাচন কমিশন অফিসে সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে একটা মনিটরিং সেল গঠন করা। যেখানে আমরা সারাদেশে কোথায় সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয়ভীতি দেখোনো হচ্ছে বা হতে পারে সেই তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে মনিটারিং সেলকে জানাতে পারি।। প্রতিটি জেলায় জেলায় এরকম মনিটারিং সেল গঠন করা।
৭. সংখ্যালঘু ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে এবং তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্ভয়ে বাড়িতে আসতে পারে তার ব্যবস্থা করা।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি ড. প্রভাস চন্দ্র রায়। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, হিন্দু মহাজোটের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডিসি রায়, যুগ্ম মহাসচিব সমীর সরকার, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুব্রত মন্ডল, মহিলা সম্পাদিকা বিশ্বাস মুদুলা, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব মহাজোটের প্রধান সমন্বয়কারী পংকজ হালদার, সভাপতি প্রদীপ কান্তি দে, সাধারণ সম্পাদক রাজেস নাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাধব দাস, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অভিজিৎ রায় প্রমুখ।
এএইচ/এএম

