বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নতুন মহাপরিকল্পনা নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

নতুন মহাপরিকল্পনা নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়: সিপিডি

অন্তর্বর্তী সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, মহাপরিকল্পনায় বিদ্যুতের চাহিদা অত্যধিক দেখানো হয়েছে এবং নেপাল ও ভুটান থেকে সাশ্রয়ীমূল্যে বিদ্যুৎ আনার সুযোগ পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত ও নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তৈরি করা উচিত। 

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি এমন প্রশ্ন তুলেছে।

সিপিডি জানায়, কোনো ধরনের জনমত বা বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ ছাড়াই মহাপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে আমলাদের মতামতকে অযথা প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সংস্থার বক্তব্য, এই তাড়াহুড়োর পেছনে স্পষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খসড়া মহাপরিকল্পনা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সিপিডি সুপারিশ করেছে, অন্তর্বর্তী সরকার এই খসড়া পুনর্বিবেচনা করবে। খসড়া পরিকল্পনায় বিদ্যুতের চাহিদা অত্যধিক দেখানো হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়।

এ ছাড়া নেপাল ও ভুটান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ আনার সুযোগ পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে। সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নও খসড়া পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এতে ২০৪০ সালের জন্য ৫০ হাজার ৩৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সিপিডির হিসাব অনুযায়ী, চাহিদা ৩০ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হবে না। বাংলাদেশে নতুনভাবে কোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগ্রহ নেই। সিপিডি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

সিপিডি আরও জানায়, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা ৭০ হাজার ৫১২ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির মধ্যে ৪৫ শতাংশ আসে প্রাকৃতিক গ্যাস ও এলএনজি থেকে, যা ২০৫০ সালের মধ্যে ২৯ শতাংশে নেমে আসবে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বর্তমানে ১৭ শতাংশ, যা ২০৫০ সালের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশে নামানো হবে।

সরকার একটি ২৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি ২০৫০ সালের মধ্যে সৌর বা সোলার বিদ্যুতের উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩২ গিগাওয়াট। তবে মহাপরিকল্পনায় দেখা যায়, ২০৪০ সালের আগে সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে বড় কোনো প্রকল্প বা উদ্যোগ নেই।

নতুন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য ২০৫০ সালের মধ্যে জ্বালানি খাতে প্রায় ৭০ থেকে ৮৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। বিদ্যুৎ খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ১০৭.৪ বিলিয়ন ডলার।

এএইচ/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর