ভবন নির্মাণ খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ’ গঠন করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ভবন নকশা অনুমোদন, নির্মাণ মান যাচাই এবং নিরাপদ ভবন বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করবে এ কর্তৃপক্ষ। সরকারের ধারণা, নতুন এই সংস্থা গঠনের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্ব বিভ্রান্তি কমবে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত কার্যক্রমে কোড প্রতিপালন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য। নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণে কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলবে সংস্থাটি। পাশাপাশি নির্মাণ পরিকল্পনা, নকশা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের পরীক্ষার মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান, তালিকাভুক্তকরণ এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতাও থাকবে।
আধুনিক নির্মাণ সামগ্রী ও প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিল্ডিং কোড হালনাগাদ, কোডের ব্যাখ্যা প্রদান এবং প্রয়োগ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে। ভবন নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে প্রযুক্তিনির্ভর একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর কথাও বলা হয়েছে।
কোড ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও অন্যান্য সংস্থার কাছে সুপারিশ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন, সরকারি বিধি ও নীতির মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারকে পরামর্শ দেবে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসি কমিটি, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার বিল্ডিং অফিসিয়ালদের কার্যক্রমের অধিক্ষেত্র নির্ধারণেও ভূমিকা রাখবে বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ।
সংস্থাটি পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হবে। সরকার একজন চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের সদস্যদের নিয়োগ দেবে। বোর্ডে একজন পুরকৌশলী, একজন স্থপতি, একজন নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনাবিদ, একজন বিচারক বা আইনজ্ঞ এবং একজন অভিজ্ঞ সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।
চেয়ারম্যানই হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী। চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মেয়াদ হবে তিন বছর এবং কোনো ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, দেশের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিসি কমিটি, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার ভবন নকশা অনুমোদন ও কোড প্রতিপালন কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রক ও তদারকি সংস্থা হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে নোটিশ দিয়ে নকশাসংক্রান্ত তথ্য ও নথিপত্র যাচাই করার ক্ষমতাও থাকবে সংস্থাটির।
কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি তহবিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারি অনুদান, দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থার অনুদান, বিভিন্ন ফি ও চার্জ থেকে এ তহবিলে অর্থ জমা হবে। সরকারের নিয়মনীতি অনুসরণ করে তহবিলের অর্থ ব্যয় করা হবে এবং উদ্বৃত্ত অর্থ ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য সংরক্ষণ করা যাবে।
এএইচ/এএস

