বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

১৪ জেলায় ৫ লাখ শিশুকে সাঁতার শেখাবে আইসিবিসি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

swim

ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড ইনজুরির ২০২৪ সালের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন পানিতে ডুবে মারা যায় ৫১ জনের বেশি মানুষ। যার ৭৫ শতাংশের বেশি শিশু। সে হিসেবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ জন শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারায়। যা ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। 

তাই এমন প্রাণহানির হাত থেকে শিশুদের রক্ষায় তাদের প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে টেকসই উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশ সরকারের আইসিবিসি সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং সাঁতার সুবিধা প্রদান (আইসিবিসি) প্রকল্পের আওতায় ১৪ জেলায় ৫ লাখ শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেবে। পাশাপাশি ৩ লাখ ২০ হাজার শিশুকে প্রারম্ভিক বিকাশ সহায়তা দেওয়া হবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা সিনারগোজের সহযোগিতায় গণমাধ্যম বিষয়ক উন্নয়ন সংগঠন সমষ্টি এ সভা আয়োজন করে। বাংলাদেশ সরকারের আইসিবিসি সমাজভিত্তিক সমন্বিত শিশুযত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা এবং সাঁতার সুবিধা প্রদান (আইসিবিসি) প্রকল্পের নানা দিক এতে তুলে ধরেন সংশ্লিষ্টরা। 

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘জাতি গঠনে শিশু-বান্ধব সাংবাদিকতা’ বিষয়ে জাতীয় পরামর্শসভায় এই তথ্য জানানো হয়।

এতে শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ নিশ্চিত করা এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারি–বেসরকারিভাবে সমন্বিত টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিশু-বান্ধব সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।


বিজ্ঞাপন


সংশ্লিষ্টরা জানান, আইসিবিসি প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ভিত্তিক শিশু যত্ন কেন্দ্র স্থাপন, ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ সহায়তা এবং ৬ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের জীবনরক্ষাকারী সাঁতার ও নিরাপত্তা কৌশল প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। ২০২২ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি সফলভাবে ২০২৫ সালে শেষ হয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায় নিয়ে কাজ চলছে। এ পর্যায়ে আরও ১৪ জেলায় ৫ লাখ ২০ হাজার শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ এবং ৩ লাখ ২০ হাজার শিশুকে প্রারম্ভিক বিকাশ সহায়তা দেওয়া হবে।

‘আস্থায় হাত ধরি, শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে মূল আলোচনায় পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধসহ শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিত করতে সমন্বিত ও স্থায়ীত্বশীল উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার উন্নয়ন সংস্থা ও গণমাধ্যমের মাঝে আস্থার সম্পর্ক জোরদার করার তাগিদ দেন বক্তারা।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোসা. আরজু আরা বেগম এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি।

আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শবনম মুস্তারী এবং আইএমইডি’র মহাপরিচালক ডক্টর আলম আমিন সরকার।

স্বাগত বক্তব্য দেন যুগ্ম সচিব এবং আইসিবিসি প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল কাদির। ‘আস্থায় হাত ধরি, শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি’ বিষয়ে মূল আলোচনার সূত্রপাত করেন সিনারগোজ বাংলাদেশ এর কান্ট্রি হেড এশা হুসেইন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমষ্টির নির্বাহী পরিচালক সিনিয়র সাংবাদিক মীর মাসরুরুজ্জামান।

সভায় সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন- চর্চা ডটমকের সম্পাদক সোহরাব হাসান, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ, চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, চ্যানেল আইয়ের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, দৈনিক যুগান্তরের উপ-সম্পাদক শুচী সৈয়দ, দৈনিক প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী, বাংলাভিশনের সিনিয়র নিউজ এডিটর সালমা ইয়াসমিন, মানবজমিনের বার্তা সম্পাদক কাজল ঘোষ প্রমুখ।

সিভিল সোসাইটির পক্ষে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্কের (বেন) ভাইস চেয়ার মাহমুদা আখতার, সিনারগোস বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ রিজওয়ান খান পিএমপি, সিআইপিআরপি’র গবেষক ডা. আল আমিন প্রমুখ।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এনডিসি বলেন, শিশুদের প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ নিশ্চিত করা এবং পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধের জন্য সরকারের উদ্যোগগুলো সম্প্রসারণের কাজ চলছে; এ বিষয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন।

অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা কার্যক্রমের সফলতা ও চ্যালেঞ্জের দিকগুলো গণমাধ্যমে আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা প্রয়োজন।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের মহাপরিচালক ড. মো. আল আমিন সরকার বলেন, শিশুদের উন্নয়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর প্রভাব মূল্যায়ন করে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ ও পুরনোগুলোর সম্প্রসারণ করা।

বিইউ/এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর