আসন্ন জাতীয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ সিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ডাকসুতে সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান ডাকসু ভিপি।
বিজ্ঞাপন
সাদিক কায়েম বলেন, ‘হ্যাঁ’ তে সিল দিন, নিরাপদ বাংলাদেশ বুঝে নিন। ডাকসু আসন্ন জাতীয় গণভোটকে সামনে রেখে গণতন্ত্র, জনগণের মতামতের মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ডাকসু ভিপি বলেন, ‘ডাকসু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, জুলাই বিপ্লবের মূল দাবি ছিল বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার। সেই সংস্কার বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক পথ হিসেবেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অতএব, এই গণভোটে অংশগ্রহণ ও ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করা জুলাই শহীদদের রক্তের পবিত্র আমানত রক্ষার একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনে এ দেশের জনগণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে কার্যত বঞ্চিত ছিল। গণভোট সেই ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতেই ফিরিয়ে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
ডাকসু ভিপি বলেন, ডাকসু মনে করে, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে জুলাই শহীদরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের অন্যতম পদক্ষেপ হলো এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনগণের সুস্পষ্ট সমর্থন।
গণভোটে হ্যাঁ তে গণরায় দিয়ে চিরতরে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েক বলেন, যাতে আর কখনো পিলখানা, আল্লামা সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদী বিক্ষোভে গণহত্যা, শাপলা কিংবা জুলাইয়ের মতো গণহত্যা সংঘটিত না হয়। শিক্ষাঙ্গনে শহীদ নোমানী, আবু বকর, বিশ্বজিৎ কিংবা আবরার ফাহাদদেরকে যেন শহীদ হতে না হয়, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি-সহ সকল নাগরিকরা যেন ন্যায়বিচার পান। গুম-খুন ও ‘আয়নাঘর’-এর মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটে।
বিজ্ঞাপন
সাদিক কায়েম বলেন, এই গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে, জুলাই সনদ কার্যকর হবে, রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে, এক ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বাধীন ও শক্তিশালী হবে, চাকরিতে নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে; সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে জনগনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে, সমাজের সর্বস্তরে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে; সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শের মানুষের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষিত হবে। ইন্টারনেট মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত হবে, যেন ভবিষ্যতে ইন্টারনেট বন্ধ করে খুনী হাসিনার মতো কেউ গণহত্যা চালাতে না পারে। অর্থাৎ, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কোন পথে পরিচালিত হবে—তার খতিয়ান ও রূপরেখা নির্ধারিত হবে এই গণভোটের মাধ্যমেই।
ডাকসু ভিপি বলেন, ডাকসু মনে করে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া শুধু একটি নাগরিক কর্তব্য নয়; এটি শহীদদের রেখে যাওয়া রক্তের আমানতের হেফাজত করা। বিশেষ করে জনসাধারণ, তরুণ সমাজ ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ ছাড়া এ দেশকে ফ্যাসিবাদী কাঠামো থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। এই গণভোটের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদী কাঠামোর চূড়ান্ত অবসান ঘটবে। একটি নতুন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির স্থায়ী রূপ লাভ করবে যেখানে কেউ খুনী হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে পারবে না।
ডাকসুর মাসব্যাপী কর্মসূচি:
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গঠন ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডাকসু যে মাসব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে, তার সংক্ষিপ্তসার নিম্নরূপ—
১. মার্চ : ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে দেশজুড়ে গণভোটের পক্ষে সরাসরি জনসংযোগ কার্যক্রম।
২. অনলাইন ক্যাম্পেইন : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ই-পোস্টার, ভিডিও, রিলস ও লেখালেখির মাধ্যমে ছাত্র-জনতার কাছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর গুরুত্ব তুলে ধরা।
৩. প্রদর্শনী বিতর্ক: যুক্তিতর্কের মাধ্যমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর প্রয়োজনীয়তা উপস্থাপন।
৪. সেমিনার আয়োজন: রাষ্ট্রীয় সংস্কারে হ্যাঁ এর গুরুত্ব, রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহার পর্যালোচনা, তারুণ্যের মুখোমুখি, রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে তারুণ্যের প্রত্যাশা ও ভাবনা আলোচনা।
৫. সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভা।
৬. প্রিন্ট ও টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা।
৭. মোবাইল সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা।
৮. অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা।
৯. ‘জুলাই আহতদের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা।
১০. গণভোটে "হ্যাঁ" এর সমর্থন ও যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গান, কবিতা ও ডকুমেন্টারি প্রকাশ ।
১১. গণভোট নিয়ে তারুণ্যের ভাবনা শীর্ষক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা আয়োজন।
১২. জনসচেতনতামূলক পথনাটক ও মাইম প্রদর্শনী
১৩. ছাত্র সংগঠনসমূহের সঙ্গে মতবিনিময় সভা।
১৪. সামাজিক সংগঠনসমূহের সঙ্গে মতবিনিময় সভা।
১৫. সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সফর ও গণভোটের পক্ষে জনমত গঠনে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করা।
সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি, এনসিপিসহ দেশের সব ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্রসংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজ এবং আপামর ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী গণজোয়ার সৃষ্টির উদাত্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এসএইচ/ক.ম

