রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় উচ্চচাপবিশিষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ গ্যাস লাইন উচ্ছেদে বাধা প্রদান এবং তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় যেকোনো সময় বিস্ফোরণসহ বড় ধরনের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
তিতাস গ্যাস সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়োজিত একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন ৫ নম্বর রোড, পলাশপুর (শনির আখড়া) এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, দনিয়া টিবিএস থেকে ঢাকা শহরের সিটি সেন্ট্রাল ডিআরএসগামী উচ্চচাপবিশিষ্ট ১৬ ইঞ্চি ব্যাসের (১৫০ পিএসআইজি) মেইন লাইন থেকে অবৈধভাবে ২ ইঞ্চি লাইনের মাধ্যমে সংযোগ নিয়ে এলাকার বাসিন্দারা আবাসিক স্থাপনায় গ্যাস ব্যবহার করছেন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, উচ্চচাপের বিতরণ লাইন থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়ার ফলে যেকোনো সময় বিস্ফোরণসহ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা ব্যাপক জানমালের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ঝুঁকি বিবেচনায় অবৈধ লাইন উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে অভিযান চলাকালে কিছু উশৃঙ্খল ব্যক্তি জড়ো হয়ে অবৈধ লাইন উচ্ছেদ কার্যক্রমে বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র্যাব ও তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় তিতাস গ্যাসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন। পাশাপাশি কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
বিজ্ঞাপন
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে অবৈধ উচ্চচাপ বিতরণ লাইন সম্পূর্ণ উচ্ছেদ না করেই অভিযানে নিয়োজিত দলকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে হয়।
এ অবস্থায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি ৫ নম্বর রোড, পলাশপুর (শনির আখড়া) এলাকার বাসিন্দাদের উচ্চচাপবিশিষ্ট ১৬ ইঞ্চি, ১৫০ পিএসআইজি বিতরণ লাইন থেকে সংযোগকৃত ২ ইঞ্চি অবৈধ লাইন থেকে গ্যাস ব্যবহার না করার জন্য কঠোরভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এসব অবৈধ সংযোগ থেকে কোনো দুর্ঘটনা বা জানমালের ক্ষতি হলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দায় বহন করবে না।
একই সঙ্গে উচ্চচাপবিশিষ্ট মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এসব অবৈধ লাইনসহ অন্যান্য সব অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের জনগণ এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সহযোগিতা কামনা করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
এমআর/এমআই

