মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ, বেশি আক্রান্ত শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১০ এএম

শেয়ার করুন:

hospital
বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ, বেশি আক্রান্ত শিশুরা। ছবি: সংগৃহীত

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুদের চাপ বেড়েছে। জ্বর, সর্দি–কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই ভিড় করছে অসংখ্য শিশু। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এই হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় ৬২ হাজার শিশু। এ সময় প্রায় সাত হাজার শিশুকে ভর্তি করা হলেও শয্যা সংকটের কারণে অনেককেই কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শুধু ডিসেম্বর মাসেই হাসপাতালে মারা গেছে ১৩৪ নবজাতক।


বিজ্ঞাপন


আজ জরুরি বিভাগে দেখা যায়, সাত মাস বয়সী শিশু সোহাকে কোলে নিয়ে অপেক্ষা করছেন তার মা। কয়েক দিন ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে সে। এমন দৃশ্য হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগেই দেখা গেছে।

চিকিৎসকদের মতে, শীতের এই সময়ে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। নিউমোনিয়া, অ্যাজমা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশুরা হাসপাতালে আসছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৪৭ জন, অ্যাজমায় ৩১ জন, সাধারণ সর্দি–জ্বরে ২০৯ জন এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ২৮৭ শিশু বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় শিশু হাসপাতালে ছয়জন নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা শীতের এই সময়ে শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন।

শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামরুন নাহার বলেন, ‘শীতকালে ঠান্ডা–কাশিজনিত সমস্যা নিয়ে শিশুরা বেশি আসে। অনেকের বমি হচ্ছে। এই সময়টাতে রোগের প্রকোপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।’

হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. লুনা পারভীন বলেন, ‘নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি। হাত, পা ও কান ঢেকে রাখতে হবে। ঘরে আলো–বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। বড় শিশুদের পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন এমন অনেক শিশুকে পাওয়া যাচ্ছে যাদের ঘন ঘন ঠান্ডা লাগছে, শ্বাসকষ্ট বাড়ছে এবং সহজে ভালো হচ্ছে না। ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে।’

এমআই

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর