রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ–৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ূম। তিনি অভিযোগ করেছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচন থেকে বাইরে রাখতেই মাঠপর্যায়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে প্রতিক্রিয়ায় হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘তারা কখনোই নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করতে চাননি। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও দল নিবন্ধন না পেলেও তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। কারণ, দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থ বড় এবং নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করা জরুরি।’
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, প্রাথমিক যাচাইয়ে ১০ জন ভোটারের মধ্যে ছয়জনকে পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে প্রশাসন ও পুলিশের উপস্থিতিতে তদন্ত চলাকালে ভোটাররা ভয় পেয়ে তাকে চেনেন না বা স্বাক্ষর দেননি বলে জানান। পরে আপিলে দুইজন ভোটারকে নির্বাচন কমিশনের সামনে হাজির করা হলে কমিশন তাদের বক্তব্য যাচাই করে আপিল মঞ্জুর করেন এবং নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে দেখা গেছে, অনেকের অভিজ্ঞতা আরও ভয়াবহ। বিপুলসংখ্যক আপিল ও আপিল মঞ্জুরের হার থেকেই বোঝা যায়, স্থানীয় রিটার্নিং কর্মকর্তারা বড় দলগুলোর প্রভাবে কতটা প্রভাবিত।’
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করলে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।’
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনের প্রতি মাঠপর্যায়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনো পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো ব্যবহার করে নির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নির্বাচন কর্মকর্তা নয়, আমলারা নির্বাচন পরিচালনা করছেন, যা নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা বদলের নয়, এটি সংবিধান সংস্কারের দিকেও যেতে পারে। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে দেশ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এর দায় শেষ পর্যন্ত পড়বে সাধারণ মানুষের ওপরই। তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা ছাড়া বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য কোনো বিকল্প নেই।’
এমএইচএইচ/এমআই

