রোববার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

‘ডিএনসিসি নাগরিক পদক’ পেলেন ৩ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

dncc
বিজয়ী একজনের হাতে পদক তুলে দিচ্ছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

সমাজসেবা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়েছে। 

এ বছর আটটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সমাজের তিন ব্যক্তি এবং পাঁচটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে এই সম্মানজনক পদকে ভূষিত করা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


পদকপ্রাপ্তরা হলেন— উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে পিউপিল স্কুল বাস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আব্দুর রশিদ সোহাগ, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ক্যাটাগরিতে শ্রুতি রানী দে এবং অ্যাডভোকেসিতে নাগরিক নেতা হাওয়া বেগম।

এছাড়া পদকপ্রাপ্ত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- স্যোশাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণে আপলিফট বাংলাদেশ, পরিবেশবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাষানটেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সামাজিক সংগঠন হিসেবে উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরি, প্রাণী সুরক্ষায় প ফাউন্ডেশন এবং সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রোববার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়।

এ তথ্য নিম্চিত করেছেন ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন।


বিজ্ঞাপন


নাগরিক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। 

ডিএসসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নীতিনির্ধারক ও বিশিষ্টজন।

নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের মাধ্যমে যারা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।

ডিএনসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদক প্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
  
উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ক্যাটাগরি

ডিএনসিসি এক তথ্য বিবরণীতে জানিয়েছে, উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে পদক পাওয়া আব্দুর রশিদ সোহাগ প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য দেশের প্রথম সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। জিপিএস ট্র্যাকিং ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বর্তমানে ৪৫টির বেশি প্রতিষ্ঠানের সাত হাজার শিক্ষার্থী এই সেবা নিচ্ছে, যা নগরীর যানজট ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।

ব্যক্তি উদ্যোগ ক্যাটাগরি

ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় সমাজ সংস্কার ও পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখায় শ্রুতি রানী দে’কে এ পদক দেওয়া হয়েছে। তিনি বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ১২টি বাল্যবিবাহ বন্ধে সরাসরি ভূমিকা রেখে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

স্যোশাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণ ক্যাটাগরি

বাংলাদেশের ইতিবাচক ও উন্নয়নমূলক চিত্র বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার জন্য পদক পেয়েছেন ‘আপলিফট বাংলাদেশ’। প্রতিষ্ঠানটি গত পাঁচ বছর ধরে নগরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার তথ্যচিত্র নির্মাণ করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

পরিবেশবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও পরিবেশ সচেতনতা বিকাশে দীর্ঘকালীন অবদানের জন্য ঐতিহ্যবাহী ভাষানটেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ১৯৮০ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে সবুজায়নের চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এজন্য এই প্রতিষ্ঠানটিকে এবার পদক দেওয়া হয়েছে ।

সামাজিক সংগঠন ক্যাটাগরি

জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতা বিকাশে কাজ করায় উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরিকে সামাজিক সংগঠন ক্যাটাগরিতে পদক দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি পাঠাভ্যাস তৈরি এবং গুণীজনদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক বলয় তৈরি করেছে।

লাইব্রেরিটি নিয়মিতভাবে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, জুলাই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ভাষা দিবসের রচনা প্রতিযোগিতা, বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। পাশাপাশি ‘রতœগর্ভা মা সম্মাননা’, ‘গর্বিত বাবা সম্মাননা’, ‘স্বপ্নজয়ী নারী সম্মাননা’ এবং কুরআনের হাফেজদের সংবর্ধনার মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে মূল্যবোধ, পারিবারিক বন্ধন ও মানবিক সম্মানবোধকে তুলে ধরছে।

প্রাণী সুরক্ষা ও অধিকার রক্ষা

বিপন্ন প্রাণীদের উদ্ধার, চিকিৎসা ও প্রাণীর অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিনের সক্রিয় ভূমিকার জন্য নাগরিক পদক দেওয়া হয়েছে ‘প ফাউন্ডেশন’কে। একটি মানবিক ও প্রাণীবান্ধব শহর গড়তে তাদের কার্যক্রম ছিল অনবদ্য।

অ্যাডভোকেসি ক্যাটাগরি

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার ও জীবনমান উন্নয়নে সাহসী নেতৃত্বের জন্য পদক পেলেন হাওয়া বেগম। ঘূর্ণিঝড় সিডরে সব হারানো এই নারী এখন কড়াইল বস্তিসহ পিছিয়ে পড়া মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সোচ্চার কণ্ঠস্বর।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে সবকিছু হারিয়ে তিনি ঢাকায় এসে কড়াইল বস্তিতে বসবাস শুরু করেন। নিজ জীবনের অভিজ্ঞতাকে শক্তিতে পরিণত করে তিনি বস্তিবাসীর নানা সমস্যা ও চাহিদা তুলে ধরতে অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে সক্রিয় হন।

নগর কৃষি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ওয়াশ কর্মসূচির মাধ্যমে হাওয়া বেগম বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

সর্বোচ্চ করদাতা ক্যাটাগরি

রাষ্ট্রীয় রাজস্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সর্বোচ্চ করদাতা ক্যাটাগরিতে নাগরিক পদক দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা কর পরিশোধ করেছে।

এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর