শহীদ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়-এটি রাষ্ট্রে চলমান বিচারহীনতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। হাদির ওপর হামলার দীর্ঘ এক মাস পূর্ণ হলেও খুনীদের বিচারের আওতায় আনতে না পারার দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাষ্ট্র এড়াতে পারে না। শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের বিচার না হলে রাষ্ট্রকেই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত আধিপত্যবাদ বিরোধী পদযাত্রা ও সমাবেশে এসব বলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বাদ জুমআ বাইতুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে এ কর্মসূচি হয়। পদযাত্রা ও সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব সুলতান মাহমুদ।
বিজ্ঞাপন
মুনতাছির আহমাদ বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই আজকের রাষ্ট্রব্যবস্থা। অথচ সেই রাষ্ট্রেই যদি জুলাই যোদ্ধা শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হয়, তাহলে এই রাষ্ট্রের নৈতিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হলে জনগণকে আবারও রাজপথে নামতে হবে, এবং সেই দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি বলেন, ফেলানী থেকে আবরার হয়ে শহীদ ওসমান হাদি; বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে ভিনদেশি আধিপত্যবাদ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সময়ে দেশের স্বার্থে তরুণদের আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের আধিপত্যবাদবিরোধী পদযাত্রার কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, ‘৫ আগস্ট ২৪-এর পর যারা সুশীল কথাবার্তা বলতেন আজ শহীদ ওসমান হাদি ইস্যুতে তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। হাদিকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলেও হাদিকে মুছে ফেলা যায় না। যারা শহীদ হাদিকে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে ও রাজপথে ছিল আগামী দিনে জনগণ তাদেরকেই সমর্থন জানাবে।
এ সময় জাবের ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশকে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চেয়ে রাজপথে আধিপত্যবাদ বিরোধী পদযাত্রা কর্মসূচির জন্য ধন্যবাদ জানান।
বিজ্ঞাপন
হাদিকে নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের অযাচিত বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব বলেন, এমন অথর্ব নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করা যায় না। অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব খুনিকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে জনগণ রাজপথেই ফয়সালা করতে বাধ্য হবে।
পদযাত্রা কর্মসূচিতে আরও ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হোসাইন ইবনে সরোয়ার ও ইমরান হোসাইন নূর, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মাদ ফয়জুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ ইবরাহীম খলীল, তথ্য-গবেষণা ও প্রযুক্তি সম্পাদক কামরুল ইসলাম, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাইমুন ইসলাম মিঠুন, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ইউসুফ পিয়াস, দফতর ও যোগাযোগ সম্পাদক আশিক মাদবর, প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মুহাম্মাদ মাহদী ইমাম, পরিকল্পনা ও পাঠাগার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম খান লিখন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক ইব্রাহিম নাসরুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক তুহিন মালিক, কওমি মাদরাসা সম্পাদক সাঈদ আবরার, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আব্দুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য তানভীর আহমেদ শোভন, বি এম মাহদী আল হাসান প্রমুখ।
ক.ম/

