প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতে যারা দেশ পরিচালনা করবেন, তাঁরা যেন আর কখনও ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই এবারের গণভোট আয়োজন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওসমূহের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দেশের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কারণেই ক্ষমতাসীনদের মধ্যে ফ্যাসিবাদী প্রবণতা তৈরি হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সেই পথ বন্ধ করতে হবে।
গণভোটের উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যান্য নির্বাচনের মতোই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে এতে জনগণ সিদ্ধান্ত দেবে- আগামী দিনের বাংলাদেশ কোন পথে চলবে। ভোটের দিন ভোটাররা দুটি ব্যালট পাবেন; এর মধ্যে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা এবং গণভোটের ব্যালট হবে রঙিন।
গণভোটে জনমত গঠন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বিগত সরকারের সময়ে যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগ করেছেন, সেই দায় আমাদের সবার ওপর বর্তেছে। গণভোটের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রের সব স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় এনজিওগুলোর ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উন্নয়নকর্মীদের ওপর মানুষের আস্থা রয়েছে। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে এনজিওগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিজ্ঞাপন
কর্মশালায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার। তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া যাবে। অন্যথায় দেশ আবার অতীতের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার ‘গণভোট কী ও কেন’ শীর্ষক উপস্থাপনায় জুলাই জাতীয় সনদ ও সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মো. দাউদ মিয়া। তিনি জানান, দেশের প্রায় সাড়ে চারশ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিও এবং তাদের ৫০ থেকে ৬০ লাখ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উপকারভোগীর মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ব্যুরো ও এনজিওগুলো যৌথভাবে কাজ করবে।

