শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ভোট বন্ধ হলে কী হবে, জানাল নির্বাচন কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

ec
নির্বাচন কমিশন। ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে কোনো কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—তা স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হলে কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা, পুনঃভোটের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজন হলে পুরো নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত এক পরিপত্র থেকে বিষয়টি জানা যায়। 


বিজ্ঞাপন


এতে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি  বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ২৪ অনুসারে রিটার্নিং অফিসাররা ভোটগ্রহণের দিন ও সময় উল্লেখ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবেন এবং স্থানীয়ভাবে তা প্রচারের ব্যবস্থা নেবেন।

এতে আরও বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো কারণে ভোটগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হলে প্রিজাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করবেন। এ ক্ষেত্রে ব্যালট বাক্স অপসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট হলে কিংবা ভোটের ফল নির্ধারণ অসম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট বাতিল হবে। রিটার্নিং অফিসার কমিশনের অনুমোদন নিয়ে নতুন তারিখে পুনঃভোটের ব্যবস্থা নেবেন। যদি কোনো ভোটকেন্দ্রের ফল বাদ দিয়ে পুরো নির্বাচনি এলাকার ফল নির্ধারণ সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পুনঃভোটের নির্দেশ দেবে। পুনঃভোটে ওই কেন্দ্রের সকল ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব হলে কমিশন যে কোনো পর্যায়ে ভোটগ্রহণসহ নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।

ডাকযোগে ভোট ও ফল পাঠানো

প্রবাসী ও নির্ধারিত শ্রেণির ভোটাররা ডাকযোগে (ওসিভি ও আইসিভি) আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। এ সংক্রান্ত পৃথক পরিপত্র অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্র থেকে সরাসরি ডাকযোগে জাতীয় সংসদ ও গণভোটের ভোটগণনার বিবরণীর এক কপি নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। এজন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে বিশেষ খাম সরবরাহ করা হবে এবং খাম পৌঁছাতে পোস্ট অফিস ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


ভোটকেন্দ্রে ব্যানার ও প্রবেশাধিকার

এ পরিপত্র আরও ইসি আরও জানায়, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত পরিবেশবান্ধব ব্যানার প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি কারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন—এ সংক্রান্ত ফেস্টুন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টানাতে হবে। অবাঞ্ছিত কেউ যাতে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গণভোট সংক্রান্ত ব্যানার প্রদর্শন করতে হবে। এতে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট লিখিত প্রস্তাবসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। ব্যানার মুদ্রণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেবে কমিশন।

তফসিল অনুযায়ী, ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আপিল আবেদন গ্রহণ। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

এমএইচএইচ/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর