শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নির্বাচনি এজেন্ট নিয়োগ, জাল ভোট ও সন্ত্রাস দমনে কঠোর নির্দেশনা ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

EC
একই নির্বাচনি এলাকায় একাধিক প্রার্থীর নাম এক হলে করণীয় জানাল ইসি। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনি এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগ, তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য, নির্বাচনি ব্যয় বিবরণী দাখিল এবং সন্ত্রাস ও জাল ভোট রোধে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সকল রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত এক পরিপত্র জারি করে এমন নির্দেশনা দেন।


বিজ্ঞাপন


নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক আয়োজন করতে হবে। বৈঠকে প্রার্থী, তাঁদের নির্বাচনি এজেন্ট ও পোলিং এজেন্টদের সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ–১৯৭২ অনুযায়ী দায়িত্ব-কর্তব্য, নির্বাচনি ব্যয়ের বিধান ও আইন মেনে চলার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

নির্বাচনি এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগের বিষয়ে এতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, প্রার্থী নিজ নির্বাচনি এলাকার যোগ্য ভোটারকে নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। প্রয়োজনে এজেন্ট পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে। এজেন্ট নিয়োগ না করলে প্রার্থী নিজেই নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে গণ্য হবেন। প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য একজন করে পোলিং এজেন্ট নিয়োগের সুযোগ থাকবে। ভোটগ্রহণের আগে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে নিয়োগপত্র দেখাতে হবে। পোস্টাল ব্যালট গণনার সময়ও প্রার্থী বা তাঁর এজেন্ট উপস্থিত থাকতে পারবেন।

ভোটগ্রহণ ও গণনায় এজেন্টদের ভূমিকা

ভোটগ্রহণ শুরু থেকে গণনা শেষ পর্যন্ত এজেন্টদের উপস্থিতি ও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। ভোট গণনার পর প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ভোটের হিসাব সংবলিত প্রত্যয়িত অনুলিপি এজেন্টদের দেবেন। কেউ স্বাক্ষর বা রসিদ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। ফলাফল একত্রীকরণের সময়ও প্রার্থী ও নির্বাচনি এজেন্টদের উপস্থিত থাকার সুযোগ থাকবে।


বিজ্ঞাপন


ব্যয় বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক

ইসি জানিয়েছে, সব প্রার্থী—বিজয়ী, পরাজিত ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদেরও—নির্বাচনি ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ব্যয়ের সম্ভাব্য উৎস, সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের বিবরণী জমা দিতে হবে।

ফলাফল গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনি ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ রিটার্ন ও হলফনামা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হবে এবং এর অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠাতে হবে। ব্যয় না হলেও শূন্য ব্যয়ের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যয়ের নির্ধারিত উৎসের বাইরে অর্থ খরচ, সীমা অতিক্রম বা ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধে সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সন্ত্রাস ও জাল ভোট রোধে সহযোগিতার আহ্বান

নির্বাচনে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ, ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক ব্যবহার এবং জাল ভোট প্রদান রোধে প্রার্থী ও এজেন্টদের সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছে ইসি। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে অবৈধ প্রচার, বিশৃঙ্খলা বা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

তফসিল অনুযায়ী,  ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে আপিল আবেদন গ্রহণ। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

এমএইচএইচ/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর