শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচার: ‎আলিফ ইন্ড্রাস্ট্রিজের পরিচালকরা আসামি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

ব্যবসার আড়ালে অর্থ পাচার: ‎আলিফ ইন্ড্রাস্ট্রিজের পরিচালকরা আসামি

‎বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগে আলিফ ইন্ড্রাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)সহ একাধিক পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আমদানি ও রফতানির ঘোষণায় গুরুতর অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিপুল অংকের অর্থ বিদেশে পাচার করার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।

‎বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ‎অর্থ পাচারের ঘটনার গুলশান থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলা নম্বর-১৯।

‎মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান  মো. আজিজুল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজিমুল ইসলাম, পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, তানিম মোমান সাত্তার ও আজহারুল ইসলাম।

‎জসীম উদ্দীন জানান, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ পিএলসির হেড অফিস করপোরেট শাখা (গুলশান-১, ঢাকা) থেকে ছয়টি এলসি/সেলস কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে ৫৬টি ইএক্সপি গ্রহণ করেন। এসব ইএক্সপির বিপরীতে রেডিমেড গার্মেন্টস পণ্য রফতানি করা হলেও নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও রফতানিমূল্য দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়নি।

‎প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ আমদানির ঘোষণা দিলেও প্রকৃতপক্ষে ঘোষণাকৃত পণ্যের তুলনায় কম বা ভিন্ন পণ্য আমদানি করেছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২৮ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার ৮১৪ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। 

‎সিআইডি জানায়, অনুসন্ধানের সময় আলিফ ইন্ড্রাস্ট্রিজের নিবন্ধিত কার্যালয় ও কারখানার নথিপত্র, আমদানি সংক্রান্ত কাগজপত্র, এলসি ডকুমেন্ট, ব্যাংক হিসাব বিবরণীসহ বিভিন্ন আর্থিক তথ্য পর্যালোচনা করে এই অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে সিআইডির প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর আসামিদের শনাক্তকরণ এবং অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

‎একেএস/ক.ম  

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর