‘তুমি একটা কফি বানিয়ে দাও, আমি নামাজ পড়ে বের হবো’—এটাই স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের সঙ্গে শেষ কথা ছিল সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুছাব্বির। তাকে গুলির ঘটনার পর সন্ত্রাসীদের নতুন করে টার্গেট কিলিংয়ের আলোচনা সামনে আসছে।
একই ঘটনায় মুছাব্বিরের সঙ্গে কারওয়ান বাজার ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান মাসুদ নামে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিহতের স্ত্রী সুরাইা বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বলেন, তিনি (মুছাব্বির) যখন বাইরে যান, প্রয়োজনীয় কথা ছাড়া বাসায় ফোন দেন না।’ গতকাল আমার স্বামী সন্ধ্যায় আমাকে বললেন, তুমি একটা কফি বানিয়ে দাও, আমি নামাজ পড়ে বের হবো। এটাই আমার সঙ্গে তার শেষ কথা ছিল। এরপর আমার স্বামীর গুলিবিদ্ধ নিথর দেহ দেখতে হবে এটা কখনো কল্পনা করিনি।
মুছাব্বিরের স্ত্রী বলেন, মুছাব্বির ২০ বছর যাবৎ পানির ব্যবসা করছিলেন। প্রথমে পনির ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকলেও রাজনীতিতে প্রবেশ করার পর লোক দিয়ে এই ব্যবসা দেখাশোনা করাতেন। ব্যবসা নিয়ে কারও সঙ্গে কোনো ঝামেলা থাকার কথা নয়। কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, কেন আমার স্বামীকে হত্যা করা হলো? কেন আমার সন্তানরা তার বাবাকে হারাতে হলো। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
মুছাব্বিরের স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, এই ধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলছে। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে, এখনো ঘটছে, ভবিষ্যতেও হয়তো হবে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আমার মতো অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।
এদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের পুরো দৃশ্য দেখা যায়। এতে দেখা যায়, স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে বস্তা নিয়ে দুই সন্ত্রাসী বসে ছিল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বিরকে দেখামাত্র বস্তা থেকে পিস্তল বের করে পেছন থেকে গুলি করে তারা। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এ সময় সে আবার উঠে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পকেট থেকে তার মোবাইল ফোন পড়ে যায়। ওই সময় সন্ত্রাসীরা মুছাব্বিরের ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মোছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে এ ঘটনায় আবু সুফিয়ান মাসুদ গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, এ ঘটনায় আমরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা আসামিদের শনাক্ত করার কাজ করছি। আশা করছি খুব শিগগির তাদের গ্রেফতার করা যাবে।
একেএস/ক.ম

