শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট, জানা গেল কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট, জানা গেল কারণ
রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় রান্না করতে পারছেন না অনেক পরিবার। এতে নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে এলপি গ্যাস, বৈদ্যুতিক চুলা কিংবা লাকড়ির ওপর নির্ভর করছেন। এতে বাড়তি খরচের চাপ পড়ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কাফরুল, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, উত্তরা ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এই সংকটের চিত্র দেখা গেছে। কয়েক দিন ধরেই গ্যাসের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ভোগান্তি বাড়ছে।


বিজ্ঞাপন


কাফরুলের ইব্রাহিমপুর এলাকার বাসিন্দা তামিমা হোসেন বলেন, সকালে গ্যাস পাওয়া গেলে সারাদিনের রান্না একসঙ্গে সেরে নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু গত তিন দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় নাশতার জন্য হোটেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর জাপান গার্ডেন সিটির এক বাসিন্দা জানান, গ্যাস না থাকায় বাসায় নাশতা তৈরি করা যাচ্ছে না। আশপাশের হোটেলগুলোতে রুটি-পরোটার জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তিনি একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ওই স্কুলে শিশুদের জন্য রান্না হলেও গ্যাস সংকটে গত দুই দিন তা বন্ধ রাখতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির বয়স্ক ও শিশু সদস্যদের জন্য আলাদা খাবারের ব্যবস্থা করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গ্যাস সংকটের সুযোগে ইনডাকশন চুলা ও রাইস কুকারের দামও বেড়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অপারেশন ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জানান, আমিনবাজার থেকে আসা একটি গ্যাস পাইপলাইন বুড়িগঙ্গা নদীর নিচে লিকেজ হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, গত তিন দিন ধরে কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল একসঙ্গে মেরামতের কাজ করছে। একটি লিক ক্ল্যাম্প বসানো হয়েছে। তবে পুরোপুরি মেরামতের জন্য বিশেষ ধরনের নতুন ক্ল্যাম্প তৈরি করে আবার কাজ করতে হবে। আপাতত লিকেজ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। ধাপে ধাপে গ্যাসের চাপ বাড়ানো হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর, শেওড়াপাড়া, মিরপুর, শনিরআখড়া, মগবাজার, রামপুরা, বাড্ডা, বাসাবো, সূত্রাপুর, রায়সাহেব বাজার, লক্ষ্মীবাজার, উত্তরা ও দক্ষিণখানসহ রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বলে না। কোথাও গভীর রাতে অল্প সময়ের জন্য গ্যাস মিললেও তা দিয়ে স্বাভাবিক রান্না সম্ভব হচ্ছে না।

পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত এক মাস ধরে দিনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। গত তিন দিন ধরে একেবারেই গ্যাস নেই। সকালে নাশতা না করেই অফিসে যেতে হচ্ছে।

গ্যাস সংকটের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে। সেখানে লিকেজ মেরামত করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সাইদুল হাসান নামে এক বাসিন্দা বলেন, অবৈধ সংযোগের কারণে কিছু এলাকায় বৈধ গ্রাহকেরাও গ্যাস পাচ্ছেন না। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নে অভিযান চললেও তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় এলপি গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন নির্ধারিত দামে অনেক জায়গায় এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা।

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর